• মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

মেঘনায় নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনগত কাঠামোর ভেতরে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা

বিপ্লব সিকদার / ৪২০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

মেঘনা উপজেলা নলচর–পারার বন্ধ এলাকা সংলগ্ন মেঘনা–কাঠালিয়া নদীপথে দুই দশকের বেশি সময় ধরে যে চাঁদাবাজি চলছে, তা এখন প্রায় একটি সংগঠিত শিল্পে রূপ নিয়েছে। মাঝি–মাল্লা থেকে নৌযান মালিক—সকলেই প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও মূলত এই স্পটগুলোতে অবৈধ টোল আদায় বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টিকে থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

নদীর এই দুটি স্পট থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার বেশি অবৈধ আদায় হয় বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল অর্থ যদি সরকারি রাজস্বে পরিণত করা যায়, তবে একদিকে অবৈধতা কমবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং নৌযানগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশে নদীপথে বিভিন্ন ধরনের টোল, ল্যান্ডিং স্টেশন ফি, ঘাট ফি ইত্যাদি দীর্ঘদিন ধরেই ইজারা ব্যবস্থার আওতায় থাকে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ফি আদায়ের আইনগত ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এর আওতায় যদি মেঘনার এই দুটি স্পটে “নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ফি” বা “ল্যান্ডিং/প্যাসেজ টোল” হিসেবে বৈধ ইজারা প্রবর্তন করা হয়, তবে তা আইনী কাঠামোর মধ্যেই সম্ভব।

এ ধরনের ইজারা ব্যবস্থার আরও একটি সুবিধা হলো—
নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা পেলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টোল আদায় করতে বাধ্য থাকবে। এতে নৌযানগুলোর নিরাপত্তা বাড়বে, দখলদারিত্বের সংঘাত কমবে, এবং যারা আগে অবৈধভাবে টাকা তুলত তারাও চাইলে বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে অংশ নিতে পারবে।

তবে এর জন্য কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—
ইজারা যেন কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজচক্রের হাতে না যায়।
টোল যেন নৌযান মালিক ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়।প্রশাসন, নৌপরিবহন বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে তদারকি করবে।এলাকায় দখল ও আধিপত্য বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, অবৈধ চাঁদাবাজির দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হলে আইনগত কাঠামোর ভেতরে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে শুধু রাজস্ব বাড়বে না, নদীপথও হবে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত। স্থানীয় প্রশাসন চাইলে বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনা করতে পারে—এখনই সময় এই অপব্যবস্থাকে বন্ধ করে একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রূপ দেওয়ার।

লএখক : সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন