মেঘনা উপজেলায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারের মতবিনিময় সভা স্থানীয় অপরাধপ্রবণ মহলে নীরব আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। একে অনেকেই দেখছেন শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে নয়, বরং অপরাধ, অপপ্রচার ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সমন্বিত অবস্থানের শক্ত বার্তা হিসেবে। সভার পর থেকেই সামাজিক অপরাধীচক্র ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের মধ্যে অস্বস্তি ও চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো অত্যন্ত জরুরি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সভার পরপরই উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতায় ভাটা পড়েছে। যেসব এলাকায় আগে রাতের বেলা সন্দেহজনক চলাচল, মাদক কেনাবেচা কিংবা হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অভিযোগ ছিল, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, “যারা ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রভাব খাটাত, তারা এখন আড়ালে চলে গেছে।”
বিশেষ সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে অপরাধকে আড়াল করত এবং প্রশাসনের নজর এড়ানোর চেষ্টা চালাত। সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের এই সরাসরি যোগাযোগ সেই অদৃশ্য সুরক্ষা বলয় ভেঙে দিয়েছে। ফলে অপরাধীচক্র বুঝতে পারছে—এখন আর আগের মতো নিশ্চিন্তে অপতৎপরতা চালানো সম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া সংবাদকর্মীরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই খোলামেলা যোগাযোগ সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত সাহস আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সচেতন মহলের ধারণা, এই সমন্বয় যদি ধারাবাহিক থাকে, তাহলে মেঘনা উপজেলায় সামাজিক অপরাধ দমন অনেকটাই সহজ হবে। অপরাধীরা গর্তে ঢুকছে, আর যারা নীরবে বা খোলাখুলিভাবে এসব অপরাধে মদদ দিত, তারাও এখন সংকায় দিন কাটাচ্ছে এমন বাস্তবতাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সচেতন মহল মনে করেন দু একটি দৃশ্যমান অভিযানে আরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে।