শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে ছাত্রশিবির। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন ছাত্রসংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।তিনি বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই অর্থাৎ অবশ্যই অবশ্যই আগামীকালই অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ হুমকি কিংবা পেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিঘ্ন ঘটানো হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি শাকসু নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে ছাত্রশিবির কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। দেশব্যাপী আমরা এই কর্মসূচি লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।
তিনি আরও বলেন, শাকসু নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি প্যানেল ও প্রার্থীরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ কাজ করছে এবং প্রশাসন যখন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঠিক তখনই একটি মহল পেশিশক্তির মাধ্যমে এ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পাঁয়তারা করছে।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রদল পরাজয়ের ভয়ে বারবার নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রতিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের জন্য অপচেষ্টা চালিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রম প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন গত ১২ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দিলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পূর্বঘোষিত তারিখে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় ইলেকশন কমিশন।শাকসু নির্বাচন বানচালের এই হীন নকশা নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নানা নাটকীয়তা ও দফায় দফায় তফসিল পিছিয়ে সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সব পক্ষ আনুষঙ্গিক সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ বিরাজমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পেশি শক্তির জোরে কিংবা আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করা হলে শাবিপ্রবির ৯ হাজার শিক্ষার্থীসহ সচেতন ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না। এরইমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ষড়যন্ত্রকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, অনমনীয় প্রভাব প্রদর্শন না করে তাহলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে রাস্তায় ফ্যাসিবাদ হেঁটেছিল সেই রাস্তায় বিএনপি তার অঙ্গ সংগঠনগুলো এবং ছাত্রদল হাঁটছে উল্লেখ করে সাদ্দাম বলেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। দুইটার সময় রিটের শুনানির ফল ঘোষণা হবে। আমরা আশা করি সরকারের বোধোদয় হবে। এই চক্রান্তে ফাঁদে পা দিয়ে সামনের জাতীয় নির্বাচনকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। একপাক্ষিক আচরণ তারা বন্ধ করবে। যদি না করে সারা দেশব্যাপী ইসলামী ছাত্রশিবির লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।