কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপি এখন দৃঢ়ভাবে নির্ভার অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নাটকীয়ভাবে পাল্টে দিয়েছে। জনসভার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ, আগ্রহ ও সমর্থন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দাউদকান্দি ও আশপাশের ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, হাট-বাজার, চায়ের দোকান, সড়ক-মাঠ—প্রায় প্রতিটি জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। স্থানীয় এক নেতা বলেন,
“আমরা প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। ভোটাররা আমাদের সাথে একত্রিত হচ্ছে, তাদের প্রতিক্রিয়া চমকপ্রদ।”
ভোটারদের উচ্ছ্বাস
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটাররা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণায় ব্যাপক উৎসাহ দেখাচ্ছেন। প্রবীণ ভোটাররা বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভীতির আবহ কাটিয়ে এবার তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। এক যুবক ভোটার বলেন,
“আমরা চাই কার্যকর পরিবর্তন। জনসভা আমাদের আশা দিয়েছে, আর আমরা চাই বিএনপি সেই পরিবর্তনের প্রতীক হোক।”
প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কৌশল ধীরে ধীরে ভেস্তে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, সমন্বয়ের অভাব এবং ভোটারদের উদ্দীপনা ধরে রাখতে অক্ষমতা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কার্যকারিতা কমিয়েছে।
এক বিশ্লেষক বলেন,
“বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় এবং ভোটারদের সাথে সংযুক্ত। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা শুধু পরিকল্পনা করছেন, বাস্তবে তারা ভোটারের মন জিততে পারছেন না।”

তারেক রহমানের জনসভার প্রভাব
জনসভা কুমিল্লা-১ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভোটারদের মনোবল বাড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জনসভা শুধু সমর্থন বৃদ্ধি করেনি, বরং ভোটারদের অংশগ্রহণের মানসিক পরিবর্তনও এনেছে। এক নেতা বলেন,
“জনসভা ভোটারদের মনে বার্তা দিয়েছে—এবার পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের প্রার্থী মাঠে সক্রিয়, তাই ভোটাররাও উদ্দীপ্ত।”
নির্বাচনী প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
মাঠ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির সমর্থন উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে, নিরুংকুস বিজয় সম্ভব। বিএনপি নেতারা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, নির্বাচনী দিন পর্যন্ত এই প্রচারণা এবং ভোটার সংযোগ অব্যাহত থাকবে।

এক স্থানীয় সাংবাদিক বলেন,
“মাঠে উৎসাহ, নেতাকর্মীদের একতা এবং ভোটারদের সমর্থন মিলিয়ে এই আসন এবার বিএনপির হয়ে যেতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কার্যকর জবাব দিতে পারছে না।”
নির্বাচনী রাজনীতির নতুন ধারা
দাউদকান্দি, মেঘনা এবং আশপাশের ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা এবং ভোটারদের উৎসাহ কেবল ভোটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যা দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়িত মানুষদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পথ খুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুমিল্লা-১ আসন এবার বিএনপির জন্য নির্ভার জয়ক্ষেত্র হিসেবে ইতিহাস গড়ে দিতে পারে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির সমর্থন ও ভোটারদের উচ্ছ্বাস ততই দৃশ্যমান।