তৃণমূল রাজনীতির পরীক্ষিত মুখ, হ্যাটট্রিক নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান দিলারা শিরিন-কে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দেখতে চেয়ে সরব হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে চলছে সমর্থনের ঝড়; মেঘনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণও জানিয়েছেন প্রত্যাশার কথা।
কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন দিলারা শিরিন। উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক—প্রতিটি পদেই তিনি দেখিয়েছেন সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং থেকে শুরু করে তৃণমূল লবিং—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি।
দলীয় সূত্র জানায়, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন এই নেত্রী। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে। তাঁর এই নিরলস ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ‘জয়ীতা পুরস্কার’।
দলীয় হাইকমান্ডের আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত দিলারা শিরিন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগী মনোভাব ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কেড়েছে।
মেঘনা উপজেলার তৃণমূল কর্মীরা বলেন, “দিলারা শিরিন আপা দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, এখনো আছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূল আরও উজ্জীবিত হবে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণায় তাঁকে সংসদে দেখতে চাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা—সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দিলারা শিরিনের নাম আলোচনায় থাকা অস্বাভাবিক নয়।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও, মেঘনার সর্বস্তরের জনগণ ও দলীয় কর্মীদের প্রত্যাশা—ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ এই নেত্রী যেন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান। এখন দেখার বিষয়, দলীয় হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।