মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলারা শিরিন হাসপাতাল নিয়ে মানব বন্ধন ও হাসপাতালে বর্তমান অবস্থান নিয়ে তার ফেসবুক ওয়ালে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো—-
ফেসবুকে দেখলাম মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের দাবিতে একটি সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠী আজ মেঘনা উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে সকাল ১০:০০টায় মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সুচিকিৎসা পাওয়ার জন্য মানববন্ধন করা সত্যিই বেদনাদায়ক। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে লোকবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং নানা লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে সেবা দিয়ে আসছে। এসব প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী আন্তরিকতার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের বেদনাআহত করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অফিসার, মেঘনার প্রতি আমার আন্তরিক আহ্বান থাকবে যে, সদ্য যোগদান করা নতুন ৭ জন চিকিৎসককে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে মেঘনাবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করুন। এক্স-রে বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকলে দ্রুত মেরামতের কার্যকর ব্যবস্থা নিন অথবা নতুন মেশিন সরবরাহ করে সিভিল সার্জন, কুমিল্লাকে চিঠি লিখুন। বিশেষ করে আপনার স্টাফদের যথেষ্ট ধৈর্য্যশীল হয়ে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিবন্ধকতা একজন চিকিৎসাপ্রার্থী ও তার পরিবারের জন্য বড়ই আর্তনাদের! তাই রোগীর প্রতি সামান্যতমও অবহেলা যেন না হয়।
একইসাথে প্রিয় মেঘনাবাসী ও সেবা প্রত্যাশীদের প্রতিও আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, আপনারা ধৈর্য, শালীনতা ও সৌজন্যমূলক আচরণ বজায় রাখুন। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।
আমাদের লক্ষ্য একটাই মেঘনার প্রতিটি মানুষ যেন সম্মানজনক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়। তাই সংঘাত নয়, সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক এই প্রত্যাশা করি।
-দিলারা শিরিন