• বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

রহস্যে ছেড়ে দেওয়া গ্যাস সিলিন্ডার ট্রাক

বিপ্লব সিকদার / ৭৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সেননগর বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি ট্রাক আটক হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের ও পুরোনো সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করে বাজারজাত করার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের হাতে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাকটি ফেরত দেওয়ায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইফতারের পর সেননগর বাজারের ব্যবসায়ী ভাই ভাই ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক চান বাদশার কাছে অরিয়ন ও ডেল্টা গ্যাসের মেঘনা উপজেলার ডিলার আতিকুর রহমান একটি ট্রাকে করে ৪৫টি জি গ্যাস সিলিন্ডার পাঠান। ট্রাকভর্তি সিলিন্ডার দেখে জি গ্যাসের স্থানীয় ডিলার শ্রী প্রহলাদ ট্রেডার্সের মালিক গোবিন্দ সাহার ছেলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বাবাকে খবর দেন।খবর পেয়ে গোবিন্দ সাহা দ্রুত বাজারে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাকটি আটক করেন। পরে বিষয়টি জানানো হলে মেঘনা থানার এসআই আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তবে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে উপস্থিত সবার সমঝোতার ভিত্তিতে সিলিন্ডারসহ ট্রাকটি আতিকুর রহমানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।এদিকে ঘটনার একটি ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সেননগর বাজারের পল্লী চিকিৎসক শাহাদাত। তার পোস্টে দাবি করা হয়, বাজার কমিটির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে “জি গ্যাস” নামে কথিত নিম্নমানের গ্যাস ভর্তি একটি ট্রাক আটক করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই গ্যাস মানসম্মত নয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের এই গ্যাস বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ এখনো এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় বাজার কমিটির পক্ষ থেকে থানায় ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পাশের দাউদকান্দি ও হোমনা উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই পুরোনো বা ফিটনেসবিহীন সিলিন্ডার বাজারে আসার খবর মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ভাই ভাই ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক চান বাদশা বলেন, “জি গ্যাসের স্থানীয় ডিলার গোবিন্দ সাহা আমাকে খালি সিলিন্ডার রেখে গ্যাস দেন না। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে জমতে জমতে ৪৫টি খালি সিলিন্ডার হয়ে যায়। পরে আমি আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অর্ডার অনুযায়ী সিলিন্ডার পাঠান।”অন্যদিকে জি গ্যাসের মেঘনা উপজেলার ডিলার গোবিন্দ সাহা বলেন, “আমরা কোম্পানি থেকে আনা সিলিন্ডারই বিক্রি করি। কোম্পানির নির্দেশ আছে বাইরের খালি সিলিন্ডার নেওয়া যাবে না এবং খুচরা দোকানে সরাসরি সিলিন্ডার দেওয়া যাবে না। পুরোনো বোতলে রিফিল করলে সেগুলো ফিটনেসহীন হয়ে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে ট্রাকটি দেখে আমাকে ফোন দেয়। এসে দেখি পুরোনো বোতলে জি গ্যাস ভর্তি করা হয়েছে। পরে বাজার কমিটি ও স্থানীয়দের জানিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়। তবে আতিকুর রহমান অনেক অনুরোধ করলে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিলিন্ডারসহ ট্রাকটি ফেরত দেওয়া হয়।”ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান বলেন, “আমি বুড়িচং উপজেলার বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক শান্তের কাছ থেকে এই সিলিন্ডারগুলো কিনেছি।”তবে অনুসন্ধানে শান্ত নামের ওই ব্যক্তির বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। শনিবার (৮ মার্চ) ফোনে তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ দিন আগে আতিকুর রহমানের ১০০টি খালি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে দিয়েছিলেন। পরে ১০ মার্চ আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১০০টি নয়, ৪৫টি সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। নিজেকে কখনো দোকানের মালিক, আবার কখনো পার্টনার দাবি করায় তার বক্তব্য নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি এসআই আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি মনিটরিং করছেন।”
এসআই আক্তার হোসেন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে যারা অভিযোগ করেছিলেন তারাই স্থানীয়ভাবে সমঝোতা করে ফেলেন। তাই ট্রাকটি জব্দ করা হয়নি।”অন্যদিকে জি গ্যাস কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, “বুড়িচং উপজেলার বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক শান্ত নামে আমাদের কোনো ডিলার নেই। আমাদের অনুমোদিত ডিলার ছাড়া খুচরা দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ বা পুরোনো সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস রিফিল করে কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অথচ ট্রাকটি জব্দ না করে ছেড়ে দেওয়ায় পুরো ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন