কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে পুলিশ। মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে মেঘনা থানা পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুগারচর, মানিকারচর, চন্দনপুর, তুলাতুলী, বড়কান্দা, ভাওরখোলা হয়ে লুটেরচর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিশেষ টহলের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত পুলিশি টহল থাকলে অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা কমে আসে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময়ে পুলিশের উপস্থিতি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে তদারকি জোরদার করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই টহলের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কোনো অপরাধ বা অনিয়মের তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
মেঘনা থানা পুলিশের এই টহল কার্যক্রমকে উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, নিয়মিত টহল ও জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।