হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত নবীগঞ্জ থানার কনস্টেবল জুবায়েদ উল্লাহ মুন্সি (২৮)-এর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার ডান চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং চোখটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) বিকেলে এনসিপির একটি কর্মসূচিতে হবিগঞ্জ-৩ আসন নিয়ে করা বক্তব্যের প্রতিবাদে নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে শহরের গাজীরটেক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হলে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সমাবেশ শেষে পৌর বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার স্বার্থে তড়িঘড়ি করে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন নবীগঞ্জ জাসাসের সাবেক আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপি নেতা রাশেদ মিয়া এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন। একটি কর্মসূচি ঘিরে মতবিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের নেতাকর্মী, পথচারী ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে নবীগঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আহত হন কনস্টেবল জুবায়েদ উল্লাহ মুন্সি।
আহত পুলিশ সদস্যকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি দেখতে পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন সকালে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল জুবায়েদ উল্লাহর ডান চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। চোখটির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। তার সহকর্মী ও স্বজনরা দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।