কুমিল্লার মেঘনা থানায় দায়িত্ব পালনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) ওবাইদুল হক। হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ওয়ারেন্ট তামিল—এসব ক্ষেত্রের ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট ও নগদ দুই হাজার টাকা পুরস্কার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে মেঘনা থানায় যোগদানের পর থেকেই এসআই ওবাইদুল হক অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। বিশেষ করে একটি আলোচিত হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা অর্জন করেন।
সম্প্রতি মেঘনা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট ১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
শুধু হত্যা মামলাই নয়, মাদকবিরোধী অভিযানেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এসআই ওবাইদুল হক। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড নিশ্চিত করা হয়। নিয়মিত ওয়ারেন্ট তামিল ও বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
এসআই ওবাইদুল হক বলেন, “এই পুরস্কার শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। জেলা পুলিশ সুপার, হোমনা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ওসি (তদন্ত)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহকর্মীদের সহযোগিতার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা জনগণের আস্থা বাড়ায়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভালো কাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হলে তা অন্য সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে এবং পেশাদারিত্বের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস পরিশ্রম, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এসআই ওবাইদুল হকের এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি মেঘনা থানার সামগ্রিক পুলিশিং কার্যক্রমেরও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।