• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মেঘনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

আল-মামুন:

কুমিল্লার মেঘনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও মাস শেষে অনেকের হাতে আসছে প্রত্যাশার তুলনায় অস্বাভাবিক বিল। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিআরটিসি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিল-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বিদ্যুৎ থাকে কম, বিল আসে বেশি। প্রতিবাদ হোক পুরো বাংলাদেশে।’ অন্য একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা—আর কতকাল এই অবহেলা?’

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, মেঘনা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা নেই। একদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে বিদ্যুৎ থাকলেও ভোল্টেজ ওঠানামার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

তবে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বিলের পরিমাণের সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে কম ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মধ্যেও তুলনামূলক বেশি বিল আসার অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও দাবি, দীর্ঘ সময় মিটার বন্ধ থাকার পরও বিল এসেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডিং, বিল প্রস্তুত এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিল, মিটার রিডিং ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহকদের একটি অংশ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান না। অভিযোগ নিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা কিংবা দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয় বলেও কয়েকজন বিক্ষোভকারী দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।

মেঘনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির ইসলাম রাহিম বলেন, ‘ইদানীং মেঘনায় বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। তারপরও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মেঘনার অধিকাংশ মানুষই সাধারণ কর্মজীবী। তারা সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে ঘুমাতে যান। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায়ও চরম অসুবিধা হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কোনো গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে গেলে অনেক সময় ভালো ব্যবহার পাওয়া যায় না। এমনকি সারা মাস মিটার বন্ধ থাকার পরও দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসার অভিযোগ রয়েছে।

আমির ইসলাম রাহিম বলেন, ‘আমরা এসব অনিয়ম থেকে রেহাই পেতে চাই। সারাদিন পরিশ্রম করে একজন মানুষ যেন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।’

বিক্ষোভকারীরা তিনটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন—নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে বিলের সামঞ্জস্য। একজন গ্রাহক কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন, মিটারে কী রিডিং রয়েছে, পূর্ববর্তী মাসের রিডিং কত ছিল এবং সেই অনুযায়ী বিল তৈরি হয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই না করে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা কঠিন।

এ কারণে গ্রাহকদের দাবি, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, মেঘনা উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিযোগপ্রবণ মিটারগুলো পুনরায় পরীক্ষা, সন্দেহজনক বিলের নমুনা যাচাই এবং মিটার রিডিং ও বিল প্রস্তুত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

এর পাশাপাশি মেঘনার বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ, ফিডারভিত্তিক লোডশেডিংয়ের তথ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের রেকর্ড প্রকাশের দাবি উঠেছে। এতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণ ও বিলের অভিযোগ—দুই বিষয়েই গ্রাহকদের সামনে বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য সেবা। তাই নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেয়ে যদি গ্রাহককে পূর্ণাঙ্গ বা অস্বাভাবিক বিলের বোঝা বহন করতে হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও কারিগরি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর আয়োজকেরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রকৃত অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে, মেঘনার গ্রাহকদের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে কয়েকটি মিটারের রিডিং, পূর্ববর্তী ও বর্তমান বিল, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ইউনিট এবং সরবরাহের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমন যাচাই হলে অভিযোগগুলো কেবল জনঅসন্তোষের বিষয় হিসেবে থাকবে না; বরং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার কোথায় ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিক্ষোভের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ তদন্ত করবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে। কারণ, নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্বচ্ছ বিল পাওয়াও একজন গ্রাহকের মৌলিক প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন