ঢাকার আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. শাহিন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। পুলিশের দাবি, শাহিন একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৩৪০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা।
১০ আগস্ট রাত ৯টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার শাহিনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—একজন ব্যক্তির কাছে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কীভাবে এলো? তিনি কোথা থেকে চালানটি সংগ্রহ করেছিলেন, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা সাধারণ কোনো ব্যক্তিগত বহনের পরিমাণ নয়। ফলে গ্রেপ্তার শাহিনকে কেবল একজন বাহক বা খুচরা বিক্রেতা হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট, যোগাযোগের তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই দেখা যায়, চালান বহনকারী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও মূল সরবরাহকারী বা অর্থের জোগানদাতারা আড়ালে থেকে যায়। ফলে একটি চালান উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তারের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকলে মাদকের মূল উৎস অক্ষত থাকার আশঙ্কা থাকে।
এই ঘটনায়ও তদন্ত কতদূর এগোয় এবং শাহিনের সঙ্গে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না, সেটি নজর রাখার বিষয়।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে আশুলিয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহাসড়ককেন্দ্রিক পরিবহনব্যবস্থাও এ অঞ্চলে সক্রিয়। এমন একটি জনবহুল ও যোগাযোগসমৃদ্ধ এলাকায় মাদকের বড় চালান প্রবেশ করলে তা শুধু একজনের কাছে পৌঁছানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি বিস্তৃত সরবরাহব্যবস্থার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হয়।
বিশেষ করে কবিরপুরসহ আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সরবরাহ কোথা থেকে হচ্ছে, কোন রুট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কারা এসব চালান গ্রহণ করছে—এসব বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার নিঃসন্দেহে পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অভিযান। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পেতে হলে উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চালানের উৎস পর্যন্ত পৌঁছানো জরুরি।
শাহিনের জিজ্ঞাসাবাদে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করলে সম্ভাব্য সহযোগী কিংবা সিন্ডিকেটের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এই অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—এলাকায় ইয়াবার সরবরাহ কতটা বিস্তৃত? এর সঙ্গে কি স্থানীয় কোনো চক্র জড়িত? মাদকের চালান কীভাবে আশুলিয়ায় প্রবেশ করছে? এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত কতটা এগোবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি মামলার তদন্তেই নয়, আশুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক চিত্র বুঝতেও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শাহিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা যায় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
একজনকে গ্রেপ্তার এবং ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ না করে যদি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা যায়, তবেই এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।