কুমিল্লার মেঘনায় ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. রমজান আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাইনউদ্দিন (২৫) নামে আরও একজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চরপাথালিয়া ঈদগাহ থেকে সোনারচরগামী কাঁচা সড়কের একটি কালভার্টের পূর্ব পাশে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার রমজান আলী মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাসনাবাদ (সিকদার বাড়ি) এলাকার আহসান উল্লাহর ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা থানার একটি টহল দল মানিকারচর বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, সেননগর এলাকা থেকে দুই ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে গাঁজা নিয়ে সোনারচরের দিকে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ চরপাথালিয়া ঈদগাহ থেকে সোনারচরগামী সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি অটোরিকশায় করে চেকপোস্টে এলে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। এ সময় তারা অটোরিকশা রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে রমজান আলীকে আটক করতে সক্ষম হলেও অপর ব্যক্তি একটি কালো হাতব্যাগ ফেলে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রমজান আলীর দেহ তল্লাশি করে তাঁর কোমরে লুঙ্গির ডান কোচে থাকা ছাই রঙের কাপড়ের একটি ছোট ব্যাগ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া কালো চামড়ার ব্যাগ তল্লাশি করে আরও ৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সবুজ রঙের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রমজান আলী পলাতক ব্যক্তির নাম মাইনউদ্দিন বলে জানিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে সোনারচর এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসছিলেন বলেও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে মামলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় মেঘনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২, জিআর-১৮৫/২৬, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬।পুলিশের নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রমজান আলীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম গ্রেপ্তার ও গাঁজা উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মামলার তদন্ত চলছে।