• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

সংসদ উপনেতার পদে নতুন মুখ, নাকি এবারও শূন্য?

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় তাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নতুন দায়িত্বের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই জাতীয় সংসদে তার আসন এবং সংসদ উপনেতার পদটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিএনপি এখনো এ পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সংসদ উপনেতার পদে নতুন কাউকে বসানো হবে, নাকি অতীতের নজির অনুসরণ করে পদটি শূন্য রাখা হবে।

সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, সংসদ উপনেতা সাধারণত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরের আসনে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তার পরের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ। ফলে নতুন কাউকে সংসদ উপনেতা করা হলে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও আগে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ উপনেতা—দুই পদেই আলোচনায় ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। নতুন কাউকে সংসদ উপনেতা করা হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

বিএনপির ইতিহাসে সংসদ উপনেতার পদ শূন্য রাখার নজির রয়েছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে ২০০১ সালে বিএনপি আবার সরকার গঠন করলে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে অষ্টম সংসদে কাউকে সংসদ উপনেতা করা হয়নি।

ওই সময় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য এম সাইফুর রহমান এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মধ্যে পদটি নিয়ে প্রতিযোগিতা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত পদটি শূন্যই রাখা হয়।

২০০৮ সালের নবম সংসদে বিএনপি বিরোধী দলে গেলে বিরোধীদলীয় উপনেতা পদ নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম আলোচনায় এলেও কাউকেই বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়নি।

এদিকে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। এর পরদিনই, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০ অথবা ২১ আগস্ট শপথ নিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভায় পুনর্গঠন হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন তৎপরতা বেড়েছে, তেমনি বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।

দলীয় ও দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে আগ্রহী নেতারা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা, সিনিয়র মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে তদবির করছেন, আবার কেউ বর্তমান পদ ধরে রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এরই মধ্যে বিএনপির মিত্র দলের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হচ্ছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় মহলে আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া শুধু বঙ্গভবনেই নয়, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংসদ উপনেতার পদে নতুন মুখ আসবে নাকি পদটি আগের মতোই শূন্য থাকবে—এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন