তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিবিশেষের সম্মানহানির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা
বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বরুড়ায় ‘বরুড়া বার্তা’ নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডিকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্মানহানি, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে যাচাই-বাছাই কিংবা প্রয়োজনীয় দলিল ছাড়াই নানা ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সামাজিকভাবে তাঁদের ভাবমূর্তি ও সম্মান ক্ষুণ্ন করছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ও প্রকাশিত কনটেন্টে ‘বরুড়া বার্তা’ নাম এবং একটি বিশেষ লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। লোগোতে লাল-সাদা রঙের নকশার পাশাপাশি ‘ইনকিলাব’ ও হলুদ রঙে ‘জিন্দাবাদ’ লেখা রয়েছে। প্রোফাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩৩’ লেখা দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওই আইডি থেকে বিভিন্ন সময় ব্যক্তিবিশেষকে নিয়ে এমন সব পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো দলিল বা প্রামাণ্য তথ্য দেওয়া হয়নি। এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ বা অপমানজনক মন্তব্য ছড়িয়ে দিলে তা ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি; কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
প্রশাসনের নজরদারি ও তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে ‘বরুড়া বার্তা’ আইডিটি কারা পরিচালনা করছে, প্রকাশিত পোস্ট-মন্তব্যের উৎস কী এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্তে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিংবা সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোক দায়িত্বশীলতার জায়গা’
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্য পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠলেও যাচাইহীন তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মিথ্যা অভিযোগের প্রচার এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করবে এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, প্রমাণ সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।