আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে নয়, এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
রিজভী বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার কাজ করছে। নির্বাচনে দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী বিভাগের পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করা এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দলের তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলের জনপ্রিয়তা, নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে দলটির মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার কাঠামোর বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের নিয়েও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। তবে প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দলীয় ফোরামে নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক শক্তি কতটা কার্যকরভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।