ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আন্তঃবিভাগীয় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেপ্তার
নিজস্ব সংবাদ দাতা
/ ৮
বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় :
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
শেয়ার
কাজী মোস্তাফিজ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আন্তঃবিভাগীয় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চলাচলরত বাসযাত্রীদের কৌশলে ডাবের পানি পান করিয়ে এক শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গাজীপুর ও মাগুরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার (৪০), ওরফে ‘মলম দুলাল’ এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে তিলক খান (৪৪)।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে শাপলা পরিবহনের একটি বাসে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ডাবের পানি পান করতে দেন। পানি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার স্বামী বাসে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তার পরিহিত স্বর্ণের চেইন, আংটি ও খাড়ু নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩০ জুন কোটচাঁদপুর থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।
অতঃপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী থানা এলাকায় এবং মাগুরা সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুলাল হাওলাদার ও তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, এই চক্রের বিরুদ্ধে নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে মানুষকে অচেতন করে লুট ও ছিনতাইয়ের অপরাধ সংঘটনের একাধিক মামলা রয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই ইখলাচুর রহমান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় অচেতন করে অপরাধ সংঘটনের একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অজ্ঞান পার্টিসহ সংঘবদ্ধ মাদক অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।