চীনের তৈরি J-10CE মাল্টিরোল ফাইটার ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। একই সঙ্গে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টিও খসড়া চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।
জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চীনের তৈরি J-10 যুদ্ধবিমানের পারফরম্যান্সের বিষয়টি বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তাঁর দাবি, ওই সংঘাতে ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে J-10-এর সক্ষমতা আলোচনায় এসেছে এবং এটি উন্নত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে কার্যকর পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের Rafale বা Eurofighter Typhoon-এর তুলনায় চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। ফলে সীমিত ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে J-10CE একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে শুধু যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ই নয়, অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত চুক্তি, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে। J-10CE কেনার বিষয়ে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হওয়ায় বিষয়টি এখন পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে।
এখন সংশ্লিষ্ট কমিটি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। আলোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে J-10CE যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।