‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নিপীড়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শরণার্থী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২ ও ক্যাম্প-২৬-এ পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আয়োজিত এসব সমাবেশে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্প-২৬ শালবাগানের রাস্তার মোড় ও ডি/২ ব্লকের নুরুল আমিন চৌধুরীর ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ক্যাম্প-২৬সহ নয়াপাড়ার পাঁচটি ক্যাম্পের হেড মাঝি, রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ও সাধারণ রোহিঙ্গাসহ আনুমানিক ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা স্মরণ করেন। পাশাপাশি দীর্ঘ নয় বছরের শরণার্থী জীবনের অবসান ঘটিয়ে নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত নিজ মাতৃভূমি রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্প-২২ উনচিপ্রাংয়ের বি/১ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলসংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা অংশ নেন। এতে যুবক, শিক্ষক, ইমাম, মাঝি ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ২৫ আগস্টের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হলেও তারা এখনো নিজ মাতৃভূমিতে ফিরতে পারেননি। নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ তৈরি হলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। দীর্ঘদিন মানবিক আশ্রয়, নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতিও তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউছার সিকদারের নির্দেশনায় উনচিপ্রাং ও শালবাগান এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউছার সিকদার বলেন, “২৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্প-২২ ও ক্যাম্প-২৬-এ আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এপিবিএনের সদস্যদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উভয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
সমাবেশ দুটিকে ঘিরে ক্যাম্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।