তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের প্রতিবাদ এবং গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হবে কর্মসূচি থেকে।
জোট নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও গুমের শিকার বহু ব্যক্তির পরিবার এখনো তাঁদের স্বজনদের কোনো সন্ধান পায়নি। অনেক পরিবার বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের পর নতুন করে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে সংঘটিত গুমের অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকটসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ চলছে। সরকারের ব্যর্থতা সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরো জাতি একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। কিন্তু জুলাই সনদ ও গণরায়ের বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। একই সঙ্গে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দুর্ভোগও কাটেনি। অনেক পরিবার এখনো জানে না, তাঁদের স্বজনেরা কোথায় আছেন বা তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, অতীতে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয় সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামী ৩০ আগস্ট বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। কর্মসূচির মাধ্যমে গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার এবং তাঁদের স্বজনদের বিষয়ে সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হবে।
এ ছাড়া দেশের চলমান তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের বিষয়টিও কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে বলে জোটের নেতারা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুধবারের বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদ কার্যক্রম, জুলাই সনদ ও গণরায়ের বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।