• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
কমলাপুরের ইয়াসিনকে বিয়ের প্রস্তুতি, এক সপ্তাহের মধ্যে ঘর বাঁধার দাবি তরুণী মিমের বাকেরগঞ্জে সরকারের ১৮০ দিনের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরলেন এমপি আবুল হোসেন খান নোবিপ্রবিতে Environmental Communication and Journalism কোর্সের অংশ হিসেবে ‘Sustainability Frontiers’ সেমিনার নোবিপ্রবির সংঘর্ষের তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি, সময় বাড়ানোর আবেদন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের অভিযানে মামলার সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার মাদকবিরোধী বার্তায় নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ রেলি জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী কাইচাইল ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়নে গড়ার প্রত্যয় শফিকুল মাতুব্বরের ধামইরহাটে মেরিনা হত্যা মামলার আসামি ভ্যানচালক আব্দুল মতিন গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জাতীয় পাখি দোয়েল বিলুপ্তির পথে

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ২৩০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

২৬ অক্টোবর ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

এনামুল কবির(মুন্না):বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল আজ বিলুপ্তির পথে! দুই টাকার কাগজের নোটে রয়েছে জাতীয় পাখি দোয়েলের ছবি।সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় মাঠে-ঘাটে, বনে- জঙ্গলে,গাছে গাছে একসময় জাতীয় পাখি দোয়েলসহ নানা ধরনের পাখি দেখা গেলেও কালের আবর্তে এখন আর চিরচেনা সেই পাখি দেখা যায় না। পাখিদের কলরবে মুখোরিত গ্রামের মেঠো পথ এখন পাখি শূন্য হতে চলছে।

বনে জঙ্গলে গাছে পাখি দেখার সেই অপরূপ দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। দুস্কর হয়ে পড়েছে পাখির দেখা।বনাঞ্চলের পরিবেশ দূষণ,নির্বিচারে গাছ কাটা, জমিতে কিটনাশকের যথেচ্ছা ব্যবহার,পাখির বিচরণ ক্ষেত্র ও খাদ্য সংকট আর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি।দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম আর্মি জানান, গত কয়েক বছর আগেও মানুষের ঘুম ভাঙতো পাখির ডাকে। তখন বোঝা যেতো ভোর হয়েছে। পাখির কলকাকলীই বলে দিতো যে, এখন ঘুম থেকে উঠতে হবে। তিনি আরো জানান, আমাদের গ্রামে রয়েছে একাধিক বাঁশঝাড় প্রতিটি বাঁশঝাড়ই পাখির ডাকে মুখোরিত থাকতো এবং বাঁশঝাড়ের পার্শ্বে বসবাসরত মানুষদের ঘুম ভাঙতো পাখির ডাকে। এখন সকাল থেকেই শুরু হয় মানুষের দৈনন্দীন কর্মব্যস্থতা।

কিন্তু এখন যেন সেই পাখির ডাক হারিয়ে গেছে, এখন আর গাছ গাছালিতে পাখির ডাক নেই। কয়েকজন বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোয়েল, টিয়া,ময়না, কোকিল, শালিক, চড়ুইসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিলে-ঝিলে, ঝোপে-ঝাড়ে, গাছের ডালে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনার গাছের ডালে বসে তাদের সুরের ধ্বনিতে মুগ্ধ করতো। এই পাখির কিচির-মিচির শীষ দেওয়া শব্দ এখন আর কানে শোনা যায় না। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় বাঁশ গাছে, আমের ডালে, সজিনা গাছে, বাড়ির ছাদে যে পাখি সব সময় দেখা যেত সেই পাখি এখন আর চোঁখে পড়ে না। তবে কম সংখ্যক টিয়া, ঘুঘু, বক, কাক, মাছরাঙা, ইত্যাদি পাখি শহর, গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও জাতীয় পাখি দোয়েল তেমন আর মানুষের চোখে পড়ে না।পাখি প্রেমী কিছু লোকজন জানান, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আজ বিলুপ্তির পথে।

নতুন প্রজন্ম ঐ পাখি আর তেমন দেখতে পায় না, তাছাড়া শিকারিদের দৌরাত্ম্যের কারণে পাখি শূন্য হয়ে পড়ছে বনাঞ্চল। নির্বিচারে পাখি শিকার হচ্ছে। বন উজার করে গাছ কাঁটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে পাখির বিচরণ কমে যাচ্ছে। তাছাড়াও ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পাখির বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। এতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পাখি। এখনি পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পাখি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সচেতন মহল মনে করছেন, নদী ভাঙনের ও অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে ফসলি জমিতে উঠছে ঘরবাড়ি,তাছাড়া জনসংখ্যার প্রভাবেও কোথাও না কোথাও প্রতিদিন নতুন নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে।এতে গাছ কেটে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই আগের মতো বনে জঙ্গলে তেমন পাখির দেখা মিলছে না।

মুনাফার আশায় বনে শিকারিরা বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে শিকারের হাত থেকে বাঁচতে জীবন রক্ষার্থে পাখি অন্যত্র চলে যাচ্ছে। অনেক সময় তাদের হাতে মারাও যাচ্ছে পাখি। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা নেই।পরিশেষে বলা যায়, কৃষি জমিতে মাত্রারিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ, বন ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখির দেখা আর মিলবে না। তাই আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েলসহ অন্যান্য জাতের পাখি সংক্ষণের জন্য সামাজিক বানায়ন সৃষ্টি করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন