কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. বাবুল (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহীদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে উপজেলার মাদক পরিস্থিতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের মাতাবের কান্দি গ্রামের মান্নান মুন্সির মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মো. বাবুলকে আটক করা হয়। পরে তাঁর পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচর থেকে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগে রাখা ২০ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কাগজসহ উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট ওজন ছিল ১০০ গ্রাম।
এ ঘটনায় মেঘনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) তন্ময় ভট্টাচার্য্য আদালতে দাখিল করা চালান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত চলমান থাকায় আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর জামিনের বিরোধিতাও করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি গাঁজা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বৈধ কোনো পেশা বা আয়ের উৎস নেই এবং মাদক বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে।
থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাই করে বাবুলের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে তিতাস থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। তরুণদের একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে চলে গেলে পরিবার ও সমাজ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের সরবরাহ চক্র ভেঙে দিতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
মেঘনা থানা ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানিয়েছে তিনি ।