• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ, কয়েক জেলায় পাইলট প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হলে শিল্প খাতে লোডশেডিং কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় টিকাদান শুরু তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণ মন্ত্রী দুইজন আগামীকাল বঙ্গভবনে উঠবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল কুমিল্লায় একদিনে ৩৯ মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৬৫ রিজভীর সঙ্গে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শ্যালিকাকে পেতে স্ত্রীকে খুন

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ২৫৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

১৭ জুন ২০২১, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

কেরানীগঞ্জে শ্যালিকাকে পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে হত্যার পর গুমের ঘটনার সাত মাস পর এর রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে মানবদেহের কিছু হাড়গোড় ও মোহনার মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাড়গোড়গুলো মোহনার কিনা সেটি নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে বুধবার জানান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল হোসেন স্ত্রীকে হত্যার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, শ্যালিকা আরিফা আক্তারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাকে বিয়ে করতে চায়। এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্ত্রী মোহনা। শ্যালিকাকে পাওয়ার জন্য সে স্ত্রীকে হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে লাশ বাসার পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২১ জুন রাতে মসলা বাটার শীল দিয়ে ইকবাল মোহনার মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এর পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। এ সময় মোহনার ব্যবহৃত মোবাইলটিও সেখানে ফেলে দেয়।

ইকবালের স্বীকারোক্তি মতে, মঙ্গলবার পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে মানবদেহের কিছু হাড়গোড় ও মোহনার মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে বুধবার ইকবালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বছরের ২২ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের চরকদমপুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন গৃহবধূ মোহনা আক্তার (২৫)। তার স্বামী ইকবাল হোসেন (৩৫) তখন প্রচার করেন সাংসারিক কলহের কারণে দুই শিশুসন্তানকে রেখে মোহনা অন্য কারও সঙ্গে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে লেবানন প্রবাসী মোহনার মা রহিমা বেগম তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি মানতে পারছিলেন না।

সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১১ জুন তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান। ১২ জুন পুলিশ মোহনার স্বামী ইকবালকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

ইকবালের কথাবার্তায় সন্দেহ প্রবল হয় পুলিশের। একপর্যায়ে ইকবাল মোহনাকে হত্যার পর লাশ গুমের কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তিমতে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে চরকদমপুরের একটি পুকুর থেকে মানব শরীরের হাড়গোড় ও মোহনার মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

মোহনার ফুপু হালিমা আক্তার জানান, স্বামীকে রেখে দুলাভাইয়ের সঙ্গে একাধিকবার পালিয়ে যায় আরিফা। এ নিয়ে কয়েকবার বিচার-সালিশ হলেও সমাধান হচ্ছিল না। একপর্যায়ে এলাকাবাসী অবৈধ সম্পর্কের কারণে ইকবাল ও আরিফাকে মারধর করে। দুই বছর আগে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ইকবাল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে চরকদমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠে। তার পরও ইকবাল ও আরিফার মধ্যে যোগাযোগ ছিল।

মোহনার মা রহিমা বেগম বলেন, আরিফার সঙ্গে ইকবালের সম্পর্কের বিষয়টি আমি শুনতে পাই। গত বছরের ২২ নভেম্বর জানতে পারি মোহনা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। এটা আমার বিশ্বাস হয়নি। ১১ জুন দেশে ফিরে পুলিশকে জানালে পর দিন ইকবাল ও আরিফাকে আটক করে পুলিশ। আমি মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই। আমার ছোট মেয়ে জড়িত থাকলে তারও বিচার চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন