• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক অজ্ঞতা: দায় কার মেঘনায় এখনো খেজুর পৌঁছেনি বললেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইলেন দিলারা শিরিন সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারিসহ ৩৪ জন গ্রেপ্তার মেঘনায় বিগত দিনে নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মিত পাকা ঘাটলাগুলো এখন পরিত্যক্ত কাঠালিয়া নদীতীরে তরুণদের ব্যতিক্রমী খোলা আকাশে ইফতার মেঘনায় সাইবার ইউজার দলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা জনবান্ধব পুলিশ গঠনে প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা রূপগঞ্জে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সোনারগাঁওয়ে পিস্তল ও গুলিসহ দুষ্কৃতিকারী গ্রেপ্তার

রোজার কাফফারা কখন কীভাবে আদায় করতে হয়

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৯৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কাফফারা শব্দের অর্থ জরিমানা। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে কাজা ও কাফফারা উভয়টি আবশ্যক হয়ে যায়। তবে পানাহার ও সহবাস ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ইচ্ছাকৃত রোজা ভাঙলে কাফফারা দিতে হবে না, তবে কাজা করতে হবে। (মাবসুতে সারাখসি: ৩ / ৭২)

কাফফারা তিনভাবে আদায় করা যায়। প্রথমত, একজন দাস মুক্ত করা; দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা পালন করা। তৃতীয়ত, ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা ভালোভাবে তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।

কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিকবার একই রমজানের রোজা ভাঙার কারণে এক কাফফারাই যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ ভেঙে ফেলা সব রোজার জন্য ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা খাবার খাওয়াবে, অথবা প্রতিজন মিসকিনকে এক ফিতরা পরিমাণ সম্পদ সদকা করলে কাফফারা আদায় করা যাবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২ / ১০১, রদ্দুল মুহতার: ২ / ৪১৩)

 

৬০ মিসকিনকে দুবেলা খাবার খাওয়ানোর পরিবর্তে প্রত্যেককে এক ফিতরা পরিমাণ অর্থাৎ এক কেজি (৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি) গম বা তার সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত হলো, ওই টাকা দিয়ে মিসকিনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একজন গরিবকে প্রতিদিন এক ফিতরা পরিমাণ করে ৬০ দিন দিলেও আদায় হবে। ৬০ দিনের ফিতরা পরিমাণ একত্রে বা এক দিনে দিলে আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১ / ৫১৩, রদ্দুল মুহতার ৩ / ৪৭৮)

কাফফারার পণ্য বা আহার্য তাদের দেওয়া যাবে, যাদের জাকাত তথা ফরজ ও ওয়াজিব সদকা প্রদান করা যায়। যেমন ‘ফকির, মিসকিন, সদকা কর্মী, নওমুসলিম, ক্রীতদাস, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে যুদ্ধরত ও বিপদগ্রস্ত বিদেশি মুসাফির।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৬০)

তবে অক্ষমদের জন্য মহানবী (সা.) কাফফারার ক্ষেত্রে শিথিলতার সুযোগ রেখেছেন। কারও পক্ষে যদি কাফফারার তিন পদ্ধতির কোনো পদ্ধতিতেই তা আদায় করার সম্ভব না হয়, তবে তার জন্য ক্ষমাপ্রাপ্তির আশা করা যায়। তবে তাকে প্রকৃতই অক্ষম হতে হবে। হাদিসে এসেছে, একদা রমজান মাসে এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলেছি, আমি রোজা পালন অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তুমি একজন দাস মুক্ত করে দাও।’ তিনি বললেন, ‘সেই সক্ষমতা আমার নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তবে এর বদলে দুই মাস তথা ৬০ দিন রোজা রাখো।’ লোকটি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তেমন শারীরিক সক্ষমতা আমার নেই।’ তখন তিনি বললেন, ‘তবে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াবে।’ লোকটি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তেমন আর্থিক সক্ষমতাও আমার নেই।’ তখন তিনি তাঁকে অপেক্ষা করতে বললেন। কিছুক্ষণ পর এক সাহাবি রাসুল (সা.)-কে এক ঝুড়ি খেজুর হাদিয়া দিলেন। মহানবী (সা.) লোকটিকে ডেকে বললেন, ‘এগুলো নিয়ে গিয়ে গরিবদের মধ্যে সদকা করে দাও।’ লোকটি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই এলাকায় আমার চেয়ে গরিব আর কে আছে?’ এ কথা শুনে মহানবী (সা.) স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হাসলেন, যাতে তাঁর দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ে। তিনি বললেন, ‘আচ্ছা তবে খেজুরগুলো তুমিই তোমার পরিবার নিয়ে খাও।’ (বুখারি, হাদিস: ১৩৩৭, মুসলিম, হাদিস: ১১১১)।

সূত্র- আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন