বিপ্লব সিকদার।।
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামের বাসিন্দাদের রাজনৈতিক, স্থানীয় কূটচালের স্বীকার, ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার, অবাধ তথ্য প্রবাহের অপব্যবহার, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, সহ স্বজনদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয় কেউ কম কেউ বেশি। এতে মামলা, প্রতি মামলা হয়ে অধিকাংশ বাসিন্দারা একদিকে আসামি অন্যদিকে আহতদের চিকিৎসার অর্থ যোগান এবং পুনরায় হামলার আশংকায় অনেক নারী পুরুষ গ্রামের বাইরে। ৫ আগষ্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সরকারের সহযোগী রাজনৈতিক দলের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিগত বছরের তুলনায় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত, ঘটনা, গুজব, সবকিছু সামাল দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, ঈদ যাত্রায় হয়রানি সহ অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে অসম্ভব অস্থিরতা মোকাবেলা করে অনেক টা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে সারাদেশে একটি আনন্দ ঘন ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে অধিকাংশ মানুষ রাজধানী ছেড়ে নাড়ীর টানে গ্রামে ফিরছে স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য। ঠিক সে সময়ে নলচরের বাসিন্দাদের মধ্যে নেই ঈদের আনন্দ! প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সহ সকল অংশীজনদের স্বদিচ্ছায় নলচরের বাসিন্দাদের ঈদের আনন্দ উপভোগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত জরুরি। আমরা কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নই। দায়িত্বশীল যারা আছেন তাদের ঈদ আনন্দ যেন নিরানন্দ না হয় সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ করছি স্থানীয় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সহ অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়ে অমিমাংসিত ঘটনার মিমাংসা, পুনরায় যেন কোন প্রকার সংঘাত না ঘটে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক দল সহ সকলকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার অনুরোধ করছি। অন্যথায় সরকার সহ আমরা কেউ এই দ্বায় এড়াতে পারিনা। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে রাজনৈতিক, পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে সেগুলো অনুসন্ধান করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ, কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম বেড়েছে। এক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল না হয়ে সুনাগরিকের দায়িত্বগুলো পালন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। “বৃক্ষ তোর নাম কি, ফলে পরিচয়”। কথা মালার সংস্কৃতির সাথে সাথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে যে কোন মুল্যে এটাই হোক আমাদের অঙিকার। যারা প্রবাসে আছে দেশের যেকোনো ক্লান্তি লগ্নে তাদের ভুমিকা অপরিসীম। প্রবাসীদের পরিবার গুলো দেশেই থাকে। তাদের মাথায় দূঃ চিন্তা থেকে থাকে পরিবারের প্রতি। ইদানীং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যাদের কথা ও দেওয়া তথ্য চোখ বুঝে বিশ্বাস করার মত এমন ব্যক্তিরাও গণমাধ্যম কর্মীদের কিছু তথ্য দেন যা গুজব, বানোয়াট, এতে মিডিয়া কর্মীরাও তথ্য বিভ্রান্তিতে পরতে হচ্ছে, আমরা এমনটা আশা করিনা, এতে আস্থার জায়গায় প্রশ্ন চলে আসে। পরিশেষে সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নাগরিকদের ঈদ উদযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিশেষ অনুরোধ করছি। আগামীর মেঘনা হোক শান্তি ও সম্প্রীতির এর ব্যত্যয় ঘটলে শান্তির মেঘনা গড়তে কষ্ট সাধিত হবে।