• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সুযোগ-সুবিধার সংকট, নজরদারির অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে ঝুঁকির মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লুটের চরে দৃষ্টিনন্দন বাংলো বাড়ি, আলোচনায় সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লু সরকার জিয়ার আদর্শে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান: ড.খন্দকার মারুফ হোসেন মেঘনায় ভাটেরচর-লুটের চর সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক মূল্য তালিকা না থাকায় দুই মিষ্টির দোকানকে জরিমানা ভুয়া ডাক্তার চক্রে জিম্মি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মেঘনায় ২০ সরকারি দপ্তরে জনবল সংকট মাঠের দায়িত্ব শেষে ব্যারাকে ফিরছে সেনাসদস্যরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলাই এখন সবচেয়ে জরুরি অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স, মেঘনায় উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে — ড. মোশাররফ

খদ্দের এখন রুপালীর ঘরে

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ২৬০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

নাজমা আক্তার :

রাজনীতির বাজারে এখন খদ্দেরের কদর সবচেয়ে বেশি। নেতা বদলায়, দল পাল্টায়, ক্ষমতার চেহারা পাল্টায় — কিন্তু খদ্দেরের চাতুর্য রয়ে যায় অটুট। সে ঠিকই বুঝে যায় কোথায় গেলে কিছু মিলবে, কোথায় গেলে সুযোগ আর সুবিধা মিলিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরে। আর তাই সে আজ “রুপালীর ঘরে”।

রুপালী মানে কি?
রুপালী হচ্ছে সেই ঘর — যেখানে এখন ক্ষমতা, এখন পদ, এখন টাকার ছড়াছড়ি। এটি হতে পারে সরকারি দপ্তর, কোনো জনপ্রতিনিধির অফিস, কিংবা সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। রুপালী প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় সে সকল স্থানে, যেখানে আদর্শ নয়, বরং সুবিধাই সব।

খদ্দেররা আদর্শে নয়, অবস্থানে বিশ্বাসী। কাল যারা শপথ নিয়েছিল “সংবিধান বাঁচাতে হবে”, আজ তারা বলে “দেশের উন্নয়নে কোনো বিকল্প নেই।” যারা একদা মাইক ফাটিয়ে বলেছিল “তত্ত্বাবধায়ক চাই”, আজ তারা নৌকার পেছনে দাঁড়িয়ে ফ্লাইওভারের ছবি পোস্ট দেয়।

আদর্শ বদলায় না, খদ্দের বদলায়

রাজনৈতিক মাঠে এখন সত্যিকারের কর্মীদের চেয়ে বেশি দেখা যায় এই খদ্দেরদের। তারা নেই মিছিলের প্রথম সারিতে, নেই সংগ্রামের প্রান্তরে, কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় — তারা জেলা কমিটির উপদেষ্টা, ঠিকাদারির তালিকায় প্রথম, বা সরকারি টেন্ডারের ‘বিশ্বস্ত মুখ’।

এদের চেহারা বদলায়, পরিচয় বদলায়, কিন্তু চরিত্র নয়।
আজ তারা সরকারি দলের লোক, কাল বিরোধী দলের সভায় গলা চড়াবে। আবার পরশু কোন বিদেশি সংস্থার ‘সিভিল সোসাইটি প্রোগ্রাম’-এ বক্তা হিসেবে অংশ নেবে। এটাই খদ্দেরের রূপ — বহুরূপী, সুবিধাবাদী, আদর্শহীন।

কে দেবে জবাবদিহিতা?

প্রশ্ন হলো — এই খদ্দেরদের দৌরাত্ম্য কেন? কারণ, রাজনীতির প্রধান মঞ্চেই এখন আদর্শ নয়, খদ্দেরতন্ত্রের স্থান। দলগুলোও এখন খদ্দেরকে ভালোবাসে — কারণ সে মঞ্চ সাজায়, হল ভরায়, পোস্টার লাগায়, লাইক-কমেন্ট বাড়ায়। আদর্শবান, ত্যাগী নেতাকর্মী এখন কোণঠাসা।

কিন্তু ইতিহাস বলে — খদ্দের কখনো শেষ রক্ষা করতে পারে না।
যে দল বা নেতৃত্ব খদ্দের দিয়ে রাজনীতির সৌন্দর্য সাজায়, একদিন ঠিকই সেই খদ্দেরই হয়ে দাঁড়ায় ‘ভাঙনের নায়ক’। কারণ এরা কারো নয়। স্রোত যেদিকে, খদ্দের সেদিকেই। আদর্শ যেখানে ডুবে যায়, খদ্দের সেখানেই ভেসে ওঠে।

শেষ কথা হলো আজ যিনি গর্ব করে বলেন — “খদ্দের এখন রুপালীর ঘরে”, কাল তিনিই আফসোস করে বলবেন — “আমরা কাউকে চিনতেই পারিনি”।
রাজনীতিকে বাঁচাতে হলে, খদ্দেরের ঘর নয় — প্রয়োজন আদর্শের ঘর।

লেখক – সমাজ কর্মী, বিশ্লেষক 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন