• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
যমুনায় দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে দায়িত্বে অবহেলায় শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিতাসে প্রশাসনে নেতৃত্বের শূন্যতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের বিকল্প নেই: নবজীবনের প্রকাশক-সম্পাদক নুরুন্নাহার স্থানীয় নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী করতে চায় না ইসি নয়াদিল্লিতে মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ পেলেন সাইদুর রহমান সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টক্সিক মানসিকতার বিস্তার: সামাজিক সম্প্রীতির নীরব সংকট

জল ঘোলায় রিজিক মেলায় যারা, তারা বিপথগামী, উত্তরণের পথ এখনই জরুরি

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৬৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার।।

বাংলার প্রবাদ— “জল ঘোলা করে মাছ ধরা”— কেবল কথার কথা নয়, বাস্তবের ভয়ঙ্কর প্রতিচ্ছবি। বর্তমান বাংলাদেশে নানা মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছে, যাকে বলা যায়— ‘জল ঘোলায় রিজিক মেলা’। কিন্তু এই ফায়দা লুটে নেওয়ার পথ বাস্তবিকই বিপথগামিতা, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আত্মঘাতী।

কারা ঘোলা করছে জল?

রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা দলীয় সংকীর্ণতা ও ক্ষমতা লিপ্সা নিয়ে কৃত্রিম সংঘাত তৈরি করে তারা। নানা ছলচাতুরি করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়।

আমলাতন্ত্র ও দালাল চক্র
নথিপত্র আটকে রেখে ঘুষ আদায়, কাগজপত্র জটিল করে সমস্যা সৃষ্টি—তারপর সেই সমাধানের নামে সুবিধা আদায়, এ যেন ওপেন সিক্রেট।

অপপ্রচারনির্ভর মিডিয়া ও ভুয়া ইনফ্লুয়েন্সার

গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ভুল পথে চালনা করা, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক আস্থা নষ্ট করে।

সুযোগসন্ধানী নেতা, জাতিগত পরিচয় বা সামাজিক ক্ষোভকে পুঁজি করে তারা সমাজে বিভক্তি তৈরি করে।

কী বিপদ অপেক্ষা করছে?

নৈতিকতা বিলুপ্ত হয়: সৎ মানুষ কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

তরুণরা হতাশ হয়: দুর্নীতির সফলতা দেখে ন্যায়ভিত্তিক জীবনের আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে: প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

উত্তরণের পথ: কী করণীয়?

নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে

শিক্ষার ভিত নৈতিকতাভিত্তিক না হলে সমাজে সততা টিকবে না।

দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা

স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, নাগরিক মনিটরিং, জন-অভিযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

সচেতন নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, প্রতিদিনের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ।

সাংবাদিকতা হোক নিরপেক্ষ ও তথ্যনিষ্ঠ

মিথ্যা শিরোনাম, হাইপ তুলে বা চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ে যেন গণমাধ্যম বিশ্বাসযোগ্যতা না হারায়।

সৎ নেতৃত্ব ও যুবসমাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

নেতৃত্ব হোক সেবার প্রতীক, ষড়যন্ত্র নয়। তরুণদের সামনে থাকা চাই ইতিবাচক রোল মডেল।
যারা জল ঘোলা করে রিজিক পেতে চায়, তারা জাতির শত্রু। তারা সমাজের আস্থা, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পথ তৈরি করে। এখনই প্রয়োজন এই প্রবণতার বিরুদ্ধে জেগে ওঠা—সত্য, স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধের নতুন সূর্য উদিত করা।

যাত্রা শুরু হোক ব্যক্তিগত জায়গা থেকে।
সমাজ বদলাবে, যদি আমরা বদলাই।

 

লেখক – সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন