• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় মামলা না নিতে তদবির করতে যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেঘনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করার পথ সমতল নয় মেঘনায় টপ সয়েল লুট উন্নয়নের নামে কৃষির ভবিষ্যৎ হুমকিতে মেঘনায় ১৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার মেঘনায় ওরশে বিরোধের জেরে সিএনজি থামিয়ে নৃশংস হামলা, সাব্বির নিহত, বাবুল গ্রেপ্তার জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেঘনার লুটের চর – উপজেলা সদর সড়ক ৩০ ভাগ কাজ বাকি, অর্থ ও সময়ের  নতুন চাহিদা মেঘনায় সামাজিক সুরক্ষা ভেঙে পড়ায় জনজীবনে চরম অনিশ্চয়তা বাঞ্ছারামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভা

গণমাধ্যম কর্মী : নতজানুতা বনাম সততা

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৪৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

বিপ্লব সিকদার।। 

“সাংবাদিকতা হচ্ছে এমন এক পেশা যেখানে সত্য বলা বিপজ্জনক, আর চুপ থাকা বিশ্বাসঘাতকতা।”

আজকের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা যেন দ্বিধা ও সংকটে জর্জরিত এক ভূখণ্ড। একদিকে গোপন চাপ, কর্পোরেট মালিকানার নির্দেশনা, রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু; অন্যদিকে বিবেকের তাড়না, জনতার অধিকার রক্ষার দায়িত্ব, আর সত্যের পক্ষে থাকার আত্মমর্যাদা। এই দুই মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একা, দ্বিধাগ্রস্ত এক সংবাদকর্মী।

সাংবাদিকতা কি শুধুই ক্যারিয়ার?

এক সময় সাংবাদিকতা ছিল প্রতিরোধের হাতিয়ার, অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। কিন্তু আজ অনেকের কাছে এটি শুধুই একটি ‘ক্যারিয়ার’ বা কর্পোরেট চাকরি। সেখানে নিয়োগ হয় মালিকের অনুগত মুখপাত্রের, ছাঁটাই হয় বিবেকবান কলম যোদ্ধা। ফলে, প্রশ্ন তুলতে ভয়, সত্য প্রকাশে শঙ্কা—সাংবাদিকতা হয়ে পড়ে নীরব, নতজানু।

নতজানুতা: এক আত্মা বিক্রির গল্প

ক্ষমতাবানদের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘ভুল’ হয়ে যায় ‘উন্নয়ন’

দুর্নীতির সংবাদ চাপা পড়ে ‘সাফল্য গাথা’র বিজ্ঞাপন চিত্রে

নির্যাতনের খবর হয়ে যায় ‘অপপ্রচার’

নিরপেক্ষ সংবাদকর্মীকে বলা হয় ‘রাষ্ট্রবিরোধী’

এই হলো নতজানু সাংবাদিকতার বাস্তবতা। এটি ব্যক্তি সাংবাদিকের নয়, পুরো পেশার পরাজয়।

সততা: সংকটেও যে জিততে জানে

সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও সাহস। এককথায়—সততা।
যে সাংবাদিক দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে, কর্পোরেট লোভ বা হুমকির পরোয়া না করে জনস্বার্থে কথা বলে, তিনিই সত্যিকার সাংবাদিক। তার হাতেই থাকে সমাজ বদলের চাবিকাঠি।

সংঘর্ষ: নীরবতা বনাম বিবেক

বর্তমানে এই দুই বাস্তবতা—সুবিধাবাদ ও সততা—একটানা সংঘর্ষে লিপ্ত। একদিকে ‘পেইড নিউজ’, অন্যদিকে ‘জনগণের সংবাদ’। একদিকে ক্ষমতার কাছে মাথা নত করা, অন্যদিকে নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানো।

এই সংঘর্ষে কারা টিকবে? তার উত্তর নির্ভর করছে আমাদের—পাঠক, নাগরিক, ও সাংবাদিক সমাজের সাহসী অংশের ওপর।
গণমাধ্যমের সামনে আজ চ্যালেঞ্জ—চুপ থাকবে, না কথা বলবে? মাথা নত করবে, না কলম তুলবে?সাংবাদিকতা যদি হয় ‘জনগণের পক্ষে বিবেকের আওয়াজ’, তবে নতজানুতা নয়, দরকার সততার সাহস।

❝আজকের কলম সৈনিকেরা যদি নতজানু হন, তবে আগামী প্রজন্ম সত্যের আলো পাবে না।❞

লেখক – গণমাধ্যম কর্মী।। 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন