ঢাকা   ০৩:৪৩:৩১ এএম, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিএম কাদের দম্পতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, September 4, 2025,
  • 603 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।

গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগ থাকায় দুদক এই দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণ করা হয়, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

অভিযোগে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে জিএম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদের সংসদ সদস্য হন।

এতে আরও বলা হয়, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন এবং দলীয় পদ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন, যা পরে বিদেশে পাচার করা হয়। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট হলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।

আর তার স্ত্রী শরীফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকা মূল্যের তারও একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মনোনয়ন বাণিজ্য ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে জিএম কাদের ও তার স্ত্রী জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন যা দুদক অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান কালে জানা গেছে অভিযুক্তরা যেকোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন। তারা দেশ ত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হবে বা দীর্ঘায়িত হবে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জিএম কাদের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৪ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি