• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটে বিশেষ সুবিধা যুক্ত হবে: বিমানমন্ত্রী বিএফটিআইকে আন্তর্জাতিক মানের থিংক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপি সরকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে যা বললেন আযম খান সাদা পোশাকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে: সমাজবাদী নেতার দাবি হামের ভয়াবহতায় ঝরল আরও ৪ শিশুর জীবন ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী মেসির চোখের জল দেখে আবেগী শশী, বললেন ‘দয়া করে কেঁদো না’ সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন রাশেদ সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে নেতাদের জন্য যা যা ছিল

গ্রামীণ জনপদের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সুবিধা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে

বিপ্লব সিকদার / ৮৬৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

 

গ্রামীণ জনপদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম সারির সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, জনগণের নিরাপত্তা–চাহিদা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অপরাধের নতুন ধরন—সব মিলিয়ে এই বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে গ্রাম পুলিশের জবাবদিহি, দক্ষতা ও আধুনিকতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

গ্রামে খুন, ধর্ষণ, চুরি, জমি দখল, উত্তেজনাপূর্ণ পারিবারিক বিরোধ—এসব ঘটনার প্রথম খবর সাধারণত গ্রাম পুলিশের কাছেই পৌঁছায়। তারা মাঠপর্যায়ের চোখ–কান—কিন্তু সেই ‘চোখ–কান’ কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক জায়গায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতির অভাব, দায়িত্বে গাফিলতি, রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে পক্ষপাত—এসব কারণে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা কমছে। ফলে ছোট অপরাধ বড় ঘটনায় রূপ নিচ্ছে, আর প্রশাসন অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দেরিতে।

জেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়হীনতাও গ্রাম পুলিশের কার্যক্রমকে দুর্বল করছে। কোথাও তাঁরা শুধু কাগজপত্র বহনের কাজে সীমাবদ্ধ, কোথাও আবার মাঠপর্যায়ের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও যথাযথ স্বীকৃতি পান না। পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের ঘাটতি—সব মিলিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ধীরে ধীরে অনাদরে পিছিয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে তিনটি বিষয়ের ওপর জরুরি গুরুত্ব দিতে হবে—
(১) জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ,
(২) আধুনিক প্রশিক্ষণ,
(৩) প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি।

গ্রাম পুলিশের দৈনন্দিন কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ডিজিটাল লগবুক, জিপিএস-ভিত্তিক মাঠপরিদর্শন রিপোর্টিং কিংবা নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকলে তাদের দায়িত্ব পালনের মান অনেক বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে এই বাহিনীকে তদারকি করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকলে গ্রাম পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

নিরাপত্তাহীনতা গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা, নারী–শিশুর জীবনযাত্রা—সব কিছুকে প্রভাবিত করে। তাই গ্রাম পুলিশকে শুধু একটি সহায়ক বাহিনী হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হলে গ্রামাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

গ্রামের মানুষ নিরাপদ হলে দেশের উন্নয়নও আরও টেকসই হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন