দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা-১(দাউদকান্দি -মেঘনা) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম ঘোষণা দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আসনে বিকল্প প্রার্থী ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মারুফ হোসেন। অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত ও জাতীয় পর্যায়ের একজন নেতাকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি যে নিরাপদ ও কৌশলগত পথ বেছে নিয়েছে, তা স্পষ্ট।
কুমিল্লা-১ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অতীতে এই আসনে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। ফলে এখানে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে দলের জন্য একটি ‘স্টেবল চয়েস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এমন একজন নেতাকে সামনে আনা বিএনপির কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এই মনোনয়ন স্থানীয় নেতৃত্বের ভেতরে সম্ভাব্য বিভাজন ঠেকাতেও সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রবীণ নেতার প্রার্থী হওয়া সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব প্রশমনে ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. মোশাররফ হোসেনকে প্রার্থী করে বিএনপি একদিকে যেমন ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের বার্তাও দিচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অভিজ্ঞ রাজনীতির সমন্বয় তুলে ধরার মাধ্যমে বিএনপি মধ্যপন্থী ও অনিশ্চিত ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মনোনয়ন বিএনপির জন্য শুধু একটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা নয়, বরং এটি দলটির বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।