• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইলেন দিলারা শিরিন সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারিসহ ৩৪ জন গ্রেপ্তার মেঘনায় বিগত দিনে নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মিত পাকা ঘাটলাগুলো এখন পরিত্যক্ত কাঠালিয়া নদীতীরে তরুণদের ব্যতিক্রমী খোলা আকাশে ইফতার মেঘনায় সাইবার ইউজার দলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা জনবান্ধব পুলিশ গঠনে প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা রূপগঞ্জে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সোনারগাঁওয়ে পিস্তল ও গুলিসহ দুষ্কৃতিকারী গ্রেপ্তার কুমিল্লার মেঘনায় মানিকার চর বাজার ইজারা: গত বছরের তুলনায় রাজস্ব কম প্রায় ২৫ লাখ সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের ৩ কর্মকর্তাকে বদলি, চলছে মামলার প্রস্তুতি

মেঘনায় বিগত দিনে নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মিত পাকা ঘাটলাগুলো এখন পরিত্যক্ত

বিপ্লব সিকদার / ৭৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
oplus_2

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিগত বছর গুলোতে  জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত অধিকাংশ  পাকা ঘাটলা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘাটলার অনেকগুলোই এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো কাজে না লাগায় জনগণের অর্থ অপচয় হয়েছে।
বিন্দুবাংলা টিভির সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার সাতানি বাজার ঘাটলা, পারার বন্ধ গ্রামের ঘাটলা, রাধানগর নদীপারের ঘাটলাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মিত পাকা ঘাটলাগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরে আছে জনাকীর্ণ অবস্থায়। কোথাও সিঁড়ির পাকা অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার কংক্রিট উঠে গিয়ে লোহার রড বের হয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে ঘাটলার স্ল্যাব ফেটে গেছে এবং পিলারগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।কোথাও সড়ক বিহীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ঘাটলাগুলোতে ফাটল দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তা ভেঙে পড়তে শুরু করে।বছরের পর বছর ব্যবহার অযোগ্য হয়ে জায়গা দখল করে আছে এসব ঘাটলা।  বর্তমানে এসব ঘাটলা দিয়ে নদীতে বা পুকুরে  ওঠানামা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এসব ঘাটলা ব্যবহার করছেন না।
সাতানি বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস (ছদ্ধ নাম) বলেন, “ঘাটলাটা বানানোর সময় আমরা ভেবেছিলাম এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সিঁড়ি ভেঙে গেছে। এখন কেউ আর এখানে নামতে সাহস পায় না।” একই ধরনের অভিযোগ করেছেন পারার বন্ধ গ্রামের বাসিন্দারাও।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঘাটলা নির্মাণের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথাযথ তদারকি ছিল না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করেছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকার মানুষের সুবিধার জন্য টাকা দেয়। কিন্তু এখানে সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হয়নি। দেখার কেউ নেই বলেই কিছু অসাধু লোক অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সঠিকভাবে মনিটরিং করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সরকারি অর্থ বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল দপ্তরকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনগণের দাবি, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ঘাটলাগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হোক, যাতে নদীপারের মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন