• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ড্যাবের ইফতারে শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সদস্য হলেন কামরুজ্জামান প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক অজ্ঞতা: দায় কার মেঘনায় এখনো খেজুর পৌঁছেনি বললেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইলেন দিলারা শিরিন সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারিসহ ৩৪ জন গ্রেপ্তার মেঘনায় বিগত দিনে নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মিত পাকা ঘাটলাগুলো এখন পরিত্যক্ত কাঠালিয়া নদীতীরে তরুণদের ব্যতিক্রমী খোলা আকাশে ইফতার মেঘনায় সাইবার ইউজার দলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা জনবান্ধব পুলিশ গঠনে প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা রূপগঞ্জে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক অজ্ঞতা: দায় কার

বিপ্লব সিকদার / ৭১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অধিকাংশ স্থানীয় বাজার, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লার দোকান কিংবা ছোট উৎপাদনমুখী ব্যবসা পরিচালিত হয় এসব উদ্যোক্তার মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদের একটি বড় অংশ জানেন না যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ব্যবসার ক্ষেত্রে মূসক বা মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা যখন মূসক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন, তখন এর দায় কার? বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হলে আইন, প্রশাসন, সচেতনতা এবং ব্যবসায়িক বাস্তবতা সব দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।বাংলাদেশে মূসক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর মাধ্যমে। মূসক সংক্রান্ত প্রধান আইন হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২। এই আইনের অধীনে নির্ধারিত হয়েছে কোন ব্যবসায়ীর মূসক নিবন্ধন নিতে হবে, কারা টার্নওভার কর দেবেন এবং কারা করমুক্ত থাকবেন। আইন অনুযায়ী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রয় নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে মূসক নিবন্ধন নিতে হবে এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আবার ছোট পরিসরের ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা টার্নওভার করের বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ আইনের কাঠামোতে বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীর জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রান্তিক ব্যবসায়ী এসব বিধান সম্পর্কে অবগত নন। তাদের অধিকাংশই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা কর শিক্ষা ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করেন। তারা সাধারণত অভিজ্ঞতা বা পারিবারিক ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে ব্যবসা করেন। ফলে কর ব্যবস্থার জটিল নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তাদের ধারণা সীমিত থাকে। এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে—আইন জানানো বা সচেতনতা তৈরির দায়িত্ব কার?প্রথমত, রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। যেহেতু কর ব্যবস্থা পরিচালনা করে রাষ্ট্র, তাই আইন প্রণয়নের পাশাপাশি জনগণকে সেই আইন সম্পর্কে অবহিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এনবিআর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অনেক ক্ষেত্রে তা শহরকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চল বা ছোট বাজারে এসব উদ্যোগের প্রভাব তুলনামূলক কম। ফলে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা সরাসরি এই তথ্যের আওতায় আসেন না। তাই বলা যায়, সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও সহজবোধ্য হওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আইনের ভাষা ও প্রক্রিয়ার জটিলতাও একটি বড় সমস্যা। মূসক নিবন্ধন, হিসাব সংরক্ষণ, রিটার্ন দাখিল—এসব প্রক্রিয়া অনেক সময় ছোট ব্যবসায়ীর কাছে কঠিন মনে হয়। অনেকের ধারণা, কর ব্যবস্থাপনা মানেই জটিল কাগজপত্র ও অতিরিক্ত ঝামেলা। ফলে তারা শুরু থেকেই এসব বিষয় এড়িয়ে চলেন। আইনের ভাষা সহজ করা এবং প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও ব্যবহারবান্ধব করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তৃতীয়ত, ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্থানীয় বাজার কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সমিতি বা সংগঠন থাকে, যারা বাজার পরিচালনা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা করে। এই সংগঠনগুলো যদি নিয়মিত কর বিষয়ক সচেতনতা সভা আয়োজন করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে এসব সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
চতুর্থত, ব্যবসায়ীদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আইন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকা সব সময় গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সরকারি ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আইন সম্পর্কে জানা সম্ভব। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম আইনগত জ্ঞান থাকা একজন উদ্যোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যবসায়ীদেরও সচেতন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।সবকিছু বিবেচনা করলে বলা যায়, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক অজ্ঞতা কোনো একক পক্ষের ব্যর্থতা নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত সমস্যা। এখানে রাষ্ট্রের সচেতনতা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা, আইনের জটিলতা, স্থানীয় সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যবসায়ীদের তথ্য-অনাগ্রহ সবকিছুই ভূমিকা রাখে। সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকারের উচিত সহজ ভাষায় কর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং ডিজিটাল সেবা সহজ করা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠন ও উদ্যোক্তাদেরও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।অতএব, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক অজ্ঞতার দায় এককভাবে কারও নয়। এটি একটি কাঠামোগত ও সামাজিক সমস্যা, যার সমাধান সম্ভব কেবল যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। যখন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং কর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, তখনই প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবেন।

 

লেখক – সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন