• শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
কলমের কালি থেকে বুলেট: বিবেকের রক্তক্ষরণ শব্দহীন কান্নায় জর্জরিত মেঘনার জেলেপল্লীর জীবনসংগ্রাম ফেসবুকে অপপ্রচার: সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভুইয়ার জিডি জবাই করা ১৩টি ঘোড়ারগোস্ত ফেলে পালিয়েছে একটি চক্র আইন পাস, তবুও সক্রিয় আ.লীগ নেতাকর্মী: ড.খন্দকার মারুফ হোসেন নকলমুক্ত এসএসসি পরীক্ষা নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ:খন্দকার মারুফ মেঘনার সড়কে অপরিকল্পিত স্পীড ব্রেকারে ঘটছে দূর্ঘটনা খুঁজতে হবে সমাধান বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন ড.মোশাররফ হোমনা -বাঞ্ছারামপুর সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়, ফুটপাত দখল- নিরাপত্তা শঙ্কায় বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হলেন কামাল উদ্দিন সবুজ

কলমের কালি থেকে বুলেট: বিবেকের রক্তক্ষরণ

বিপ্লব সিকদার / ৪৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মানবসভ্যতার ইতিহাসে “কলম” শুধু একটি বস্তু নয় এটি জ্ঞান, বিবেক ও প্রতিবাদের প্রতীক। সভ্যতার বিকাশে কলম মানুষের চিন্তা, দর্শন ও ইতিহাসকে ধারণ করেছে এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও কলমকে জ্ঞান ও নৈতিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হয় । কিন্তু সময়ের এক নির্মম বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে কলম একসময় সত্য লিখত, সেই কলম এখন প্রতীকীভাবে “বুলেট” ছুঁড়ছে।এই পরিবর্তন মূলত সমাজের গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। যখন রাষ্ট্র, রাজনীতি কিংবা ক্ষমতার কাঠামো সত্যকে দমন করে, তখন লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের কলম আর শুধু তথ্য বহন করে না তা হয়ে ওঠে প্রতিরোধের অস্ত্র। ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন আন্দোলনে লেখনী শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে; বিশেষ করে সাম্প্রতিক সামাজিক আন্দোলনগুলোতে লেখক ও প্রাবন্ধিকদের লেখনী জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।“কলম থেকে বুলেট বের হওয়া” এই বাক্যটি বাস্তবিক অর্থে সহিংসতা বোঝায় না, বরং এটি প্রতীকী। এটি বোঝায়, শব্দ এখন আর নিরপেক্ষ নেই; শব্দে জমে উঠেছে ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের আগুন। যখন বিচারহীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন সত্য বলা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তখন লেখনীও হয়ে ওঠে তীক্ষ্ণ ও আক্রমণাত্মক। সাহিত্য, কবিতা বা প্রবন্ধ সবকিছুতেই তখন দেখা যায় এক ধরনের বিস্ফোরণধর্মী ভাষা।এই প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একদিকে এগুলো মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করেছে, অন্যদিকে ঘৃণামূলক ভাষা ও বিভাজনও দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি নেতিবাচক ও সহিংস ভাষার ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে “কলম” এখন দ্বিমুখী অস্ত্র একদিকে এটি মুক্তির বার্তা বহন করে, অন্যদিকে এটি বিভাজনও সৃষ্টি করতে পারে।বাংলা সাহিত্যেও প্রতীকী ভাষার ব্যবহার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। লেখকরা প্রায়ই সরাসরি না বলে প্রতীকের মাধ্যমে গভীর সত্য তুলে ধরেন। “কলমের বুলেট” এমনই একটি শক্তিশালী প্রতীক, যা আমাদের সময়ের নৈতিক সংকটকে তুলে ধরে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যখন সত্যকে হত্যা করা হয়, তখন শব্দও রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।তবে এই অবস্থার একটি ইতিবাচক দিকও আছে। যখন কলম বুলেটের মতো শক্তিশালী হয়, তখন তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। এটি মানুষকে সচেতন করে, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। ইতিহাসে বহু পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে কলমের মাধ্যমেই বিপ্লব, সংস্কার, এমনকি স্বাধীনতার সংগ্রামেও লেখনী ছিল প্রধান শক্তি।অতএব, “কলমে বুলেট” কোনো ধ্বংসের বার্তা নয়; বরং এটি একটি সতর্ক সংকেত। এটি আমাদের বলে সমাজে কোথাও গভীর অসাম্য, অন্যায় ও দমন-পীড়ন জমে আছে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন কলমকে আবার তার মূল শক্তিতে ফিরিয়ে আনা জ্ঞান, মানবতা ও সত্যের পথে।
লেখক -সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন