• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা-পরবর্তী মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সফর সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল বল্লী ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের করে দোকান ভাঙ্গচুরের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১ উদয়নমোড়-রেলস্টেশন গেট সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিলেন চসিক মেয়র সিংড়ায় কৃষিজমি কেটে অবৈধ পুকুর খনন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে বৈচিত্রতা নিয়ে ‘খবরের কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা শুরু আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞে ৫৮ নিহতের পরিচয় মিলেছে

হোমনা -বাঞ্ছারামপুর সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়, ফুটপাত দখল- নিরাপত্তা শঙ্কায়

বিপ্লব সিকদার / ৫৩২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লা- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হোমনা-বাঞ্ছারামপুর সেতুটি একসময় ছিল শুধুই যোগাযোগের অবকাঠামো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি এখন পরিণত হয়েছে এক অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম কেন্দ্র, যেখানে উন্নয়ন আর বিশৃঙ্খলা পাশাপাশি হাঁটে। ২০০৬ সালে উদ্বোধনের পর এই সেতু আঞ্চলিক অর্থনীতি ও যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও  আজ এর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।দিনের বেলায় সেতুটি যানবাহনের চাপে জর্জরিত থাকে। কিন্তু বিকেল গড়ালে শুরু হয় অন্য এক চিত্র দর্শনার্থীদের ঢল। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ আসে পরিবারসহ, বন্ধুবান্ধব নিয়ে। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন এই ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। সেতুর দুই পাশের ফুটপাত, যা পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত, তা দখল করে নেয় ভ্রাম্যমাণ দোকান, আড্ডাবাজদের দল, এমনকি মোটরসাইকেলও।
ফুটপাত দখল মানে শুধু পথচারীর দুর্ভোগ নয়; এটি সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর হাঁটে, আর একই সময়ে দ্রুতগতির যানবাহন ছুটে চলে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার বলা হয়—জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি কিন্তু বাস্তবে এখানে তার কোনো প্রতিফলন নেই।সন্ধ্যা নামার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দর্শনার্থীদের ভিড়ের আড়ালে সক্রিয় হয়ে ওঠে কিশোর গ্যাং। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সময় সেতু এলাকা হয়ে ওঠে বখাটে ও অপরাধপ্রবণ কিশোরদের আড্ডাস্থল। তারা দলবদ্ধ হয়ে ঘোরাফেরা করে, অনেক সময় পথচারীদের উত্ত্যক্ত করে, এমনকি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।এই কিশোর গ্যাং সমস্যাটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। যখন একটি জনবহুল স্থানে কোনো নজরদারি থাকে না, তখন তা অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। এখানে নেই পর্যাপ্ত পুলিশ টহল, নেই সিসিটিভি নজরদারি, নেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো। ফলে সেতুটি ধীরে ধীরে “দর্শনার্থীদের বিনোদন কেন্দ্র” থেকে “অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা”-তে রূপ নিচ্ছে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা। এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে, সেখানে কেন কোনো নিয়মিত তদারকি নেই? কেন ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে না? কেন সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
সমাধান কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রথমত, সেতুর ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে হবে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের সরাতে হবে। দ্বিতীয়ত, সন্ধ্যার পর পুলিশ টহল বাড়াতে হবে এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে। তৃতীয়ত, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রার অংশ। যদি সেই সেতু নিরাপদ না থাকে, তবে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়ে। হোমনা-বাঞ্ছারামপুর সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না।এখনই সময়, এই সেতুকে আবার নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনার। না হলে এটি একদিন বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে যার দায় এড়াতে পারবে না কেউই।

লেখক -সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন