“হয়তো তুমি সঠিকভাবে সেবা দিবা, নয়তো তোমাকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে নামাবো”— এমন ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হাসাপাতালের নোংরা পরিবেশের ভিডিও সহ পোস্ট দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মেঘনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির ইসলাম রহিম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশের এই পোস্টকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। পোস্টটি প্রকাশের প্রায় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ৩৭ জন প্রতিক্রিয়া (রিয়েকশন) দেন এবং একজন মন্তব্য করেন।
পোস্টের মন্তব্য অংশে “sadiasara” নামের একটি আইডি থেকে লেখা হয়, “হেগো ব্যবহার ও ঠিক নাই।” এর জবাবে পোস্টদাতা আমির ইসলাম রহিম মন্তব্য করেন, “সব ঠিক হয়ে যাবে।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আমির ইসলাম রহিম এই প্রতিবেদককে বলেন, “হাসপাতালে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তো আছেই। এছাড়া ভাঙতি নেই— এই অজুহাতে ৫ টাকার জায়গায় ১০ টাকা রেখে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও বিভিন্ন দায়িত্ব অবহেলার বিষয় রয়েছে। এসব কারণে ক্ষোভ থেকে আমি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত করে পোস্টটি করেছি।”
তবে প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন মেঘনা উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, “আপত্তিকর শব্দ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করে প্রতিবাদ করাকে আমরা সমর্থন করি না। তবে তিনি একজন তরুণ। হয়তো ক্ষোভ থেকেই এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন।”এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অশালীন ভাষা ব্যবহার করে পোস্ট দিয়েছেন। বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত ও মর্মাহত করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন এটা আমাদের হাসপাতালের ভিডিও না, এটা উপজেলা পরিষদের ২য় তলা ইউএনও ফ্লোরের পাবলিক টয়লেটের ভিডিও।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবার মান নিয়ে সমালোচনা ও অভিযোগ তোলার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদ হওয়া উচিত শালীন ও দায়িত্বশীল ভাষায়। অন্যদিকে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।