• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

চাহিদা ১২ মেলে ৫-৬ মেগাওয়াট : অন্ধকারে মেঘনা

বিপ্লব সিকদার / ১০৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়লেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, নিম্ন ভোল্টেজ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংকটের বড় কারণ স্থানীয় ব্যবস্থাপনা নয়, বরং জাতীয় গ্রিড থেকেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়া।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, মেঘনা উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ১২ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রয়োজনের অর্ধেক বিদ্যুৎ দিয়েই পুরো উপজেলার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে। ফলে লোডশেডিং কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা উপজেলায় মোট ৬টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় লোডশেডিং ছাড়াই বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধান গ্রাহকদের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত ৯ জুন পাশের উপজেলায় সংঘটিত টর্নেডোর কারণে। ওই দুর্যোগে অন্তত ২৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও অবকাঠামো মেরামত করতে প্রায় ৮০ ঘণ্টা সময় লাগে। টানা প্রায় তিন দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে কর্মীরা কাজ করলেও স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে সময় লেগেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, টর্নেডোর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। মেঘনা উপজেলার প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার পর আবাসিক গ্রাহকদের সেবা সচল রাখতে পাশের গজারিয়া উপজেলা থেকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ এনে সংযোগ দেওয়া হয়। এতে আংশিকভাবে সংকট মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
তবে এখানেই সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গজারিয়া উপজেলায় আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট। সেই তুলনায় মেঘনার চাহিদা অনেক কম হলেও জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব উভয় এলাকাতেই পড়ছে। ফলে একটি উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মেঘনার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়। কোথাও কোথাও অভিযোগ করা হয়, চাহিদার বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -৩ সাব জোনাল অফিস মেঘনার এজিএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎ বিক্রির বিষয়ে যিনি লিখেছেন, তিনি হয় এই খাত সম্পর্কে অজ্ঞ, না হয় অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে ক্ষ্যাপিয়ে তোলার জন্য লিখেছেন।”সচেতন মহল বলছেন  বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, তবে প্রকৃত সমস্যার উৎস শনাক্ত না করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবকাঠামোর ক্ষতি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপ এই তিনটি বিষয় বর্তমানে মেঘনার বিদ্যুৎ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন