কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫-এর বিশেষ অভিযানে ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী কক্সবাজার অঞ্চলে র্যাব-১৫ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকায় কয়েকজন মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুত করে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে র্যাব-১৫-এর সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা ধাওয়া করে শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) নামে এক নারীকে আটক করেন। এ সময় তাঁর এক সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আটক নারীর বসতঘর এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি প্লাস্টিকের ড্রাম তল্লাশি করে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শাকিলা শারমিন রেশমী উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকার মৃত আবুল কালামের মেয়ে এবং মোহাম্মদ ইদ্রিসের স্ত্রী।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নারীর দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে এবং পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।