কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় আঞ্চলিক সড়ক থেকে তরুণী মিম আক্তারের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পাঁচ দিন পর হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, ঝাড়ু মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় থানার প্রধান ফটকে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার টিএন্ডটি মোড় থেকে ঝাড়ু মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি মেঘনা থানার প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করেন। পরে তারা উপজেলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তারা মিম আক্তারের মৃত্যুকে রহস্যজনক উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে উপজেলার মির্জানগর কদমতলা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকে মিম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে মেঘনা থানা পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে একটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
নিহত মিম আক্তার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচরণ নোয়াগাঁ গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামীর বাড়ি পাশের মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর (লক্ষ্মীপুর) এলাকায়। স্বামীর নাম মো. সিয়াম।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মিম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
প্রয়োজনে এটিকে আমি সংবাদপত্রের প্রকাশযোগ্য স্টাইলে আরও পরিমার্জিত করে দিতে পারি।