সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফিংড়ী কাছারিবাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার একমাত্র পানি নিষ্কাশনের সরকারি কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রভাবশালী মানিক সাধু—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফিংড়ীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ভোলা সাধুর ছেলে মানিক সাধু দীর্ঘদিন ধরে এতিমখানার একমাত্র পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে রেখেছেন। চলতি বছরে এতিমখানার সামনের খেলার মাঠ মাটি দিয়ে ভরাট করার কারণে এতিমখানাটি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ৫৫ জন হেফজ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ছোট ছোট এতিম হেফজ শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিক সাধুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা বাড়ি এবং মার্কেট করছি, তাতে আমাদের কী দোষ?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পিতভাবে মানিক সাধু কালভার্টটি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই মাদ্রাসাসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এলাকাবাসী এ সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং মাদ্রাসাটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি প্রতিবাদ করলে জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। তাদের দাবি, মানিক সাধু টাকার প্রভাব খাটিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেন। কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। এ কারণে অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।
মাদ্রাসা কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন রেখে বলেন, “মানিক সাধুর খুঁটির জোর কোথায়?”
বিষয়টির দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসা কমিটি এবং সচেতন ফিংড়ী ইউনিয়নবাসী।