• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
হালদার স্রোতে ভেসে গেল তিন উপজেলার সংযোগ সাঁকো, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশের সদরপুর উপজেলা শাখার কমিটি অনুমোদন সংস্কৃতি ও মানবতার মেলবন্ধনে সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম: স্বীকৃতি দিল জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ‘চোর চোর’ স্লোগান শার্শা সীমান্তে বিজিবি অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪ অবসান হলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের, কয়রা ও শ্যামনগরবাসীর স্বপ্নের ‘গোবরা ঘাট’ হস্তান্তর বিশ্বনাথে পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিংড়ায় ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট: বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাদরাসার ২ শিক্ষার্থী নিহত, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা

তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ‘চোর চোর’ স্লোগান

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস:

আজ ৮ জুলাই, বুধবার, ঠিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির সামনে, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এবং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে যুব সোশ্যাল মিডিয়া কর্মীদের মহামিছিলের জমায়েত হয়। বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যায়বিচারের দাবিতে এই মহামিছিলের আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীরা বালিগঞ্জ ফাঁড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীদের মিছিলের সামনে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ জানান। তৃণমূল কর্মীদের দেখে তারা “চোর চোর” স্লোগান দিতে থাকেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড়ে একটি মঞ্চ নির্মাণ করে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি পর্যন্ত মাইক বাজানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান প্রচার করা হয়।

একদিকে যেমন কয়েকশ তৃণমূল কর্মী জমায়েত হয়েছিলেন, অন্যদিকে বেশ কিছু বিজেপি কর্মীও জমায়েত হয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেন। যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি, ঠেলাঠেলি এবং পুলিশের সঙ্গেও যথারীতি ধস্তাধস্তি চলতে থাকে।

প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার উভয় দলের কর্মীদের সাবধান করার চেষ্টা করা হলেও তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বিনা কারণে এই প্রতিবাদ মিছিল করে তৃণমূল সরকার মেয়েদের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা তা হতে দেবেন না। এ নিয়ে পুরো মিছিলজুড়ে ধস্তাধস্তি, ঠেলাঠেলি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। মিছিল হাজরা মোড়ে পৌঁছালে প্রশাসনের তরফে ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের মধ্যে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হন।

বিজেপি কর্মীরা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় আরজি কর থেকে শুরু করে ল কলেজে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, তখন কোথায় ছিলেন? কয়জনের বিচার ও শাস্তি হয়েছে? আজ বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এই সরকার। তাদের লজ্জা থাকা উচিত। তারা আরও বলেন, যে সরকারের আমলে কয়লা কেলেঙ্কারি, গরু চুরি, টাকা চুরি, চাকরি চুরি থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে, সেই সরকারই এখন প্রতিবাদ করছে।

এই মহামিছিলে উপস্থিত ছিলেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেনসহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রী।

তৃণমূল কর্মীরা একটি ছোট্ট মডেল সাজিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে থাকলে বিজেপি কর্মীরা “চোর চোর” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

তৃণমূল নেতারা বলেন, তারা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এই প্রতিবাদ করতে এসেছিলেন। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে মহামিছিল বানচাল করার চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীরা বলেন, যখন ল কলেজে ঘটনা ঘটেছিল, তখন কোথায় ছিলেন এই নেতা-নেত্রীরা? গত ১৫ বছর ধরে শুধু চুরি-চামারিতে মেতে ছিলেন। তাই জনগণ তা মেনে নিতে পারেনি এবং তারাও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের সরকার যেখানে যে ঘটনা ঘটছে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তেমনি বারুইপুরের ঘটনাতেও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং যাতে কোনো দোষী ছাড়া না পায়, তার ব্যবস্থাও করেছেন। যা তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে হয়নি। তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই একদিকে যেমন ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু হয়, অন্যদিকে বিজেপির মহিলা কর্মীরা তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের মারতে উদ্যত হন। তারা বলেন, “এরা আমাদের অনেক জ্বালিয়েছে, ঘরছাড়া করেছে, মারধর করেছে। আজ আমরা ছাড়ব না।” প্রশাসনের মধ্যস্থতা ও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

যদিও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মহামিছিলে আসার কথা ছিল, তবে তিনি মিছিলে যোগ দেননি। সারাদিন মিছিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করে। এতে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন