৭ই জুলাই, মঙ্গলবার, বারুইপুরের ধুলিয়ানে নির্যাতিতার সুবিচার এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে মোমবাতি নিয়ে বিশাল মৌন মিছিলের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করা হয়। শত শত মানুষ মোমবাতি নিয়ে প্রতিবাদে মৌন মুখর। তাঁদের একটাই দাবি—এখানে কোনো রাজনীতি নয়, চাই দোষীর ফাঁসি। যেভাবে একটি নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে, তার সুবিচার চাই।
ধুলিয়ান টাউন যুব কংগ্রেস আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সামিল হন এলাকার শতাধিক সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থক। মৌন মিছিলটি শুরু হয় ধুলিয়ান টাউন কংগ্রেস কার্যালয় থেকে। প্রত্যেকে মোমবাতি হাতে নিয়ে মৌন মিছিলে সামিল হন এবং শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে কাঞ্চনতলা হাইস্কুলে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন যুব কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা। মিছিল শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্লক যুবনেতা সাকিরুদ্দিন এবং প্রাক্তন টাউন সভাপতি বাবলু মণ্ডল রাজ্য বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তাঁরা অভিযোগ করেন, নারী সুরক্ষায় বর্তমান বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রাজ্যজুড়ে মহিলাদের ওপর ঘটে চলা একের পর এক নৃশংস ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দোষীদের ফাঁসির দাবি তোলেন কংগ্রেস নেতারা।
টাউন যুব কংগ্রেসের নেতৃত্ব স্পষ্ট জানান, বারুইপুরের নির্যাতিতা যেন দ্রুত এবং সঠিক বিচার পান। অভয়া কাণ্ডের মতো এই ঘটনাকে নিয়ে যাতে কোনো রকম নোংরা রাজনীতিকরণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানান। পাশাপাশি এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দোষীর দ্রুত ফাঁসির দাবি তোলা হয়।
এই দিনের প্রতিবাদী মিছিলে ধুলিয়ান টাউন যুব কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তিন নম্বর ওয়ার্ডের বিশিষ্ট নেতা বদরুল ইসলাম টনি। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নিপন, ইসাহাক, হেফজুর এবং আশিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও বারবার একটি কথাই তাঁরা মনে করিয়ে দেন—**”উই ওয়ান্ট জাস্টিস”**, অর্থাৎ সঠিক বিচার চাই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুরের ধুলিয়ান এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে এ জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।