• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
হালদার স্রোতে ভেসে গেল তিন উপজেলার সংযোগ সাঁকো, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশের সদরপুর উপজেলা শাখার কমিটি অনুমোদন সংস্কৃতি ও মানবতার মেলবন্ধনে সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম: স্বীকৃতি দিল জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ‘চোর চোর’ স্লোগান শার্শা সীমান্তে বিজিবি অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪ অবসান হলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের, কয়রা ও শ্যামনগরবাসীর স্বপ্নের ‘গোবরা ঘাট’ হস্তান্তর বিশ্বনাথে পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিংড়ায় ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট: বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাদরাসার ২ শিক্ষার্থী নিহত, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা

হালদার স্রোতে ভেসে গেল তিন উপজেলার সংযোগ সাঁকো, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নসংলগ্ন নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হালদা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁশের সাঁকোটি তিন উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ পথ দিয়ে হাটহাজারী সদর, চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। নাঙ্গলমোড়া, নোয়াজিষপুর ও দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতেন।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় এখন স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়তি যাতায়াত ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে।

হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন,

“হালদা নদীর ওপর নির্মিত এই সাঁকোটি শুধু একটি বাঁশের সাঁকো নয়, এটি হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি—এই তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। অনেককে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্থায়ীভাবে একটি পাকা সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অতিদ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ লেগেই আছে। তাই দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, দ্রুত সাঁকোটি পুনঃস্থাপন অথবা নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না করা হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার পরিবারের দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন