ঢাকা   ০৭:১০:৩০ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় ছাত্রদল নেতা চয়নের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 13, 2026,
  • 133 Time View
  • ৯ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

নাজমুল হাসান:

যশোরের শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সম্মানিত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়নকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেনাপোল পৌর কৃষক দলের সভাপতি ও স্থানীয় বাজার কমিটির সেক্রেটারি জসিম উদ্দিনের একের পর এক অপকর্ম, দখলবাজি এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বেনাপোল ও শার্শা এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন জসিম উদ্দিন। বিন্দুমাত্র কৃষকের নমুনা বা যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রাতারাতি কৃষক দলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাজার কমিটির সেক্রেটারি পদটি বাগিয়ে নেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার কমিটির সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকেই যেন হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন জসিম। এরপর থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট ও বাজার এলাকায় শুরু হয় তাঁর বেপরোয়া দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন।

কাস্টমস কর্মকর্তাকে সরাসরি হুমকি ও শরিফুল ইসলাম চয়নের হস্তক্ষেপ:

সর্বশেষ জসিম উদ্দিনের ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন বেনাপোল কাস্টমসের সরকারি কর্মকর্তারা। দলীয় ক্ষমতার দাপট ও বাজার কমিটির পদের প্রভাব খাটিয়ে কাস্টমসে অবৈধ ‘লাগেজ পার্টির’ মালপত্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পার করার জন্য কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান,

“ঘটনার দিন জসিম উদ্দিন সরাসরি আমাদের দপ্তরে এসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হুমকি দিয়ে বলেন—‘যদি আমার লাগেজের মাল না ছাড়িস, তোকে কিন্তু দেখে নেব! তোদের কিন্তু খবর আছে।’ আমরা সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি এবং পরবর্তীতে পুরো বিষয়টি শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন ভাইকে অবগত করি।”

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মুখে এই অন্যায়ের কথা শুনে শরিফুল ইসলাম চয়ন একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতা হিসেবে জসিম উদ্দিনের কাছে জবাবদিহি চান। তিনি জানতে চান, কেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ বাহিনী নিয়ে হামলা ও জনতার রোষানলে জসিম:

চয়নের এই ন্যায়সংগত প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জসিম উদ্দিন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং চয়নকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে জসিম তাঁর পুরোনো ও গোপন ‘ছাত্রলীগ বাহিনী’কে সক্রিয় করেন। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জসিম উদ্দিন তাঁর বাহিনীসহ বেনাপোল চেকপোস্টের ইজিবাইক স্ট্যান্ডে মহড়া দেন এবং পুরো বড় আঁচড়া গ্রামের সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

জসিমের এই উগ্র আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিক্ষুব্ধ জনতার তীব্র রোষানলে পড়ে গণধোলাইয়ের ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক পোশাকে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন জসিম উদ্দিন।

অপকর্ম ঢাকতে ৫ দিন পর সাজানো ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ নিউজ:

ঘটনার দিন জসিম উদ্দিন জনতার তাড়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পুরো বেনাপোলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও রহস্যজনকভাবে সে সময় কোনো সংবাদমাধ্যমে তা আসেনি। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘ ৫ দিন পর হঠাৎ করে শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়নকে জড়িয়ে কিছু পোর্টালে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, এটি সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিত একটি ব্ল্যাকমেইলিং ও ষড়যন্ত্র। জসিম উদ্দিন নিজে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে হুমকির অডিও-ভিডিও প্রমাণ থেকে মানুষের চোখ সরাতে ৫ দিন পর এই মিথ্যা সংবাদের আশ্রয় নিয়েছেন। চয়নকে অপরাধী সাজানোর এই অপচেষ্টা বেনাপোলের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অতীতের কালো অধ্যায় ও বহিষ্কারের ইতিহাস:

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনে জসিম উদ্দিনের কোনো ভূমিকা বা দলীয় ডকুমেন্টস না থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে যশোর-বেনাপোল চেকপোস্টের ‘বড় ডন’ ও পরম প্রভাবশালী দাবি করে বেড়ান। অথচ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নিজের নৈতিক স্খলনের কারণে ইতিপূর্বে তিনি দল থেকে বহিষ্কারও হয়েছিলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ধর্ষণ মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের পেছনে ছুরি মারা, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভিন্ন মহলে ষড়যন্ত্র করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেনাপোলে অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের রাজত্ব কায়েম করাই এখন জসিম উদ্দিনের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে শার্শা ও বেনাপোলের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই ভুঁইফোড়, দখলবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি