ঢাকা   ১০:৪৩:৪২ এএম, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চসিককে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 14, 2026,
  • 121 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মোঃ হাসানুর জামান বাবু:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) ঋণমুক্ত, স্বনির্ভর ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া একটি আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই রাজস্ব আদায়ে গতি এনে চসিককে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

মঙ্গলবার লালদীঘিস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এটি প্রমাণ করে যে, আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব। তবে আমি এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আমার লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চসিকের বার্ষিক রাজস্ব এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা।

তিনি বলেন, যেদিন আমরা এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারব, সেদিনই মনে করব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে যেতে পেরেছি। তখন চসিক সত্যিকার অর্থেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। নগরের রাস্তা, ড্রেন, খাল, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই অধিকাংশ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নগরীর বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নালা-নর্দমা ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। আবাসিক খাতে নাগরিকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করা হবে, তবে বাণিজ্যিক হোল্ডিং থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব আবাসিক হোল্ডিং এখনও করের আওতায় আসেনি কিংবা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রতিটি সার্কেলভিত্তিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক হোল্ডিংয়ের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। কোথায় কত বকেয়া রয়েছে তা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

মেয়র বলেন, গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, ভূমি হস্তান্তর ফি, এস্টেট ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি রাজস্ব খাতে আদায় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চসিককে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় মহানগর। এই নগরের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আমাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একটি স্বনির্ভর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই নাগরিকদের দ্রুত, টেকসই ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানিসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন৷ সভায় রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন জোনের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি, বকেয়া আদায়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি