পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দিন দিন জনসংখ্যা, যানবাহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাবনা শহরের যানজট। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে চকছাতিয়ানী মসজিদ থেকে চকছাতিয়ানী কবরস্থান হয়ে বালিয়াহালট মডেল মসজিদের সামনে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে চাঁদমারী মোড় থেকে পৈলানপুর মোড় হয়ে পাওয়ার হাউস মোড় পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া তৃতীয় ধাপে বাস টার্মিনাল, মুজাহিদ ক্লাব, অনন্ত সিনেমা হল ও হামিদ রোড হয়ে গাছপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাবনা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির বলেন,
“অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাসের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর প্রচেষ্টায় খুব দ্রুতই এসব সড়ক চার লেনে উন্নীত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন,
“ভয়াবহ যানজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাবনার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেক সময় যানবাহনের পাশাপাশি হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে শহরের প্রধান সড়ক হামিদ রোডের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্প্রসারণ হয়নি। অথচ জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তিনটি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে, তা বাস্তবায়নে পাবনার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত রিকশা স্ট্যান্ড স্থাপন করা হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বিশ্বাস রানা বলেন,
“পাবনা ১৭ জেলার সংযোগস্থল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। হামিদ রোডে যানজটের কারণে অনেক সময় হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিসিক শিল্পনগরীর ভারী যানবাহন বাইপাস সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। এতে শহরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”
পাবনা জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী পূর্ণিমা ইসলাম বলেন,
“বাস টার্মিনাল থেকে শহর হয়ে গাছপাড়া পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সারাক্ষণই এখানে যানজট লেগে থাকে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।”
স্থানীয় রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পু, সিএনজি ও বাসচালক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও অভিমত, প্রস্তাবিত সড়কগুলো বাস্তবায়িত হলে শহরের যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন,
“দুই শতাধিক বছরের পুরোনো এই জেলার প্রধান সড়ক হামিদ রোড যানজটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তাই এটি প্রশস্ত করা জরুরি। বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের নজরে আনা হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি স্টেকহোল্ডার সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তারা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।”
পাবনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আজিজ মুঠোফোনে জানান,
“মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ প্রকল্প নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগেও একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কের নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত সড়কগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থায়নের বিষয়গুলো সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।