• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা তালায় সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে গোসল করতে নেমে যুবকের মর্মান্তিক মৃ/ত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৫৩ ফেনসিডিল জাতীয় মাদকসহ দম্পতি গ্রেফতার প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটে বিশেষ সুবিধা যুক্ত হবে: বিমানমন্ত্রী বিএফটিআইকে আন্তর্জাতিক মানের থিংক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপি সরকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে যা বললেন আযম খান সাদা পোশাকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে: সমাজবাদী নেতার দাবি হামের ভয়াবহতায় ঝরল আরও ৪ শিশুর জীবন ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী মেসির চোখের জল দেখে আবেগী শশী, বললেন ‘দয়া করে কেঁদো না’

জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে কওমি দলগুলো?

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

কওমি ধারার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের একজোট হওয়ার চেষ্টার খবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে একমঞ্চে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এমন জল্পনা শুরু হয়েছে।

উদ্যোগটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা এ ধরনের দলগুলোর জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জামায়াত জোটে থাকা কওমি ধারার দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলছেন, এখনই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা নতুন জোট করার চিন্তা তারা করছেন না।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন।

এ ছাড়া হেফাজতের অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হেফাজতের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দল ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নতুন একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুগান্তরকে জানিয়েছে।

ওই সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সাতটি ইসলামি দল কওমি ধারার। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়। তখন সাতটি দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে।

কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, নির্বাচনের পরে বিএনপির দিক থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। আবার বড় কওমি মাদ্রাসাগুলো জামায়াতের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কিছু কওমি ধারার দল।

এমন প্রেক্ষাপটে কওমি ধারার দলগুলোকে এক ধারায় আনার জন্য হেফাজতে ইসলামের আমীর একটি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার কওমি ঘরানার সাতটি দলকে নিয়ে সভা করেন হেফাজতের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমীর নির্বাচনের আগেই কওমি ধারার দলগুলোকে এক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে একেক দল একেক দিকে গেছে। এখন সবাই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যে সাত দল আগামীতে এক সঙ্গে বসব।

তবে জামায়াতে ইসলামীর অনেকের ধারণা, তাদের জোট থেকে কওমি ধারার দলগুলোকে বের করে নেওয়ার একটি চেষ্টা হচ্ছে এবং তারা মনে করেন এই চেষ্টার পেছনে সরকারের হাত আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ  বলেন, ঐক্যের প্রেক্ষাপট ছিল একসঙ্গে নির্বাচন। নির্বাচনের পর সংসদে আমরা একত্রেই আছি। ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন করছি। বর্তমানে যে বিভাগীয় সমাবেশগুলো হচ্ছে, তাতে ১১ দলের সবার প্রতিনিধিত্বই আছে।

তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পেছন থেকে সরকার কলকাঠি নাড়তে পারে। তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলন ব্যাহত করা। তবে সেটা সফল হবে না। অতীতেও জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকারীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিতে সব সময় সরকার সচেষ্ট ছিল। তা সফল হয়নি। জনগণেরই বিজয় হয়েছে। ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আছে বলেই মনে করেন এ জামায়াত নেতা।

জামায়াত জোটে থাকা কওমি ধারার দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলছেন, এখনই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা নতুন জোট করার চিন্তা তারা করছেন না।

হেফাজতের সভায় যোগ দেওয়া ১১ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হেফাজত তো আমাদের নিয়ে। আমাদের দল গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বরাবরই হেফাজতের হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। যেহেতু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের অংশীজনরা বিভক্ত হয়ে গেছে, তাই সংগঠনের আমির একসঙ্গে পথচলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে ১১ দলীয় ঐক্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, এটা একটা রাজনৈতিক ঐক্য, আদর্শিক নয়। সংবিধান সংস্কার বা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে। সংসদে সমাধান না হলে আমরা রাজপথে আছি, থাকব।

জানতে চাইলে নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার বলেন, ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য তার আপন জায়গাতেই আছে। এটা জাতীয় রাজনীতির বিষয়। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা পরে দেখা যাবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা রাজপথে ঐক্যবব্ধ থাকব।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন