রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরই তা কার্যকর হবে এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। তার দায়িত্বকালেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন এবং পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল নজির স্থাপন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধী দল প্রতিবাদ জানায়।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বঙ্গভবন বা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।