• শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু ‘বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠন’ দাউদকান্দিতে ১ কোটি টাকার ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ প্রবাসযাত্রার প্রাক্কালে সাংবাদিক সাব্বির হাসানকে সংবর্ধনা, আবেগঘন বিদায় সদরপুরে জুলাই বিপ্লব স্মরণে ‘জ্বলজ্বলে জুলাই’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পীরগাছায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ বিক্ষোভ মিছিল গাইবান্ধায় ছিনতাইকৃত ২২ মোবাইল উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন মুফতি ফয়জুল করীম শিবগঞ্জে ‘সবুজায়ন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রিপন-দেলোয়ার হত্যা মামলা: শ্রমিক নেতা মইনুলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া:

সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মারামারি এবং পরে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা থেকে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।

মামলা দায়েরের পর আদালত থেকে মামলা তুলে এনে থানায় নতুন করে পরিবহন সভাপতি-সহ নেতাদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হলে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সভা ডেকে পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী কথা দেন, ঘটনায় জড়িত নয় এমন কাউকে মামলায় আসামি করা হবে না। হয়রানিও করা হবে না। জড়িত না থাকলে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এ ঘোষণার কারণেই পরিবহন শ্রমিক নেতারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ডাকা আন্দোলন স্থগিত করেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটের বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কদমতলীস্থ বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মূলত জগন্নাথপুর বাস মালিক সমিতির শাহজাহান কাউন্টার দখল করতে আসলে সংঘর্ষ বৃহৎ আকার ধারণ করে।

এ সময় ভাঙচুর করা হয় বাস ও টিকিট কাউন্টার। আহতদের মধ্যে বাস হেলপার রিপন আহমদ ও চালক দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার পর রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া এবং নিহত দেলোয়ার হোসেনের বাবা আজির উদ্দিন পৃথক দুটি হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়া, শ্রমিক আব্দুল বাছিত বাছাসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেন।

শ্রমিক রিপন হত্যা মামলায় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় গত ১০ জুন দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় আদালতে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি ময়নুল ইসলাম, দ্বিতীয় আসামি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, ষষ্ঠ আসামি আব্দুস শহিদ এবং সপ্তম আসামি সামসুল হক মানিককে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনটি অগ্রবর্তী করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট চারজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। কমিশনারের নির্দেশে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি বাদীকেও অবহিত করা হয়।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিপনের পিতা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী এলাকার ছাবলু মিয়া (৫৯)। কথা বলা হয় তার সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি মামলা করেছিলেন আদালতে। ওই মামলা তিনি পরে উত্তোলন করেছেন। নতুন করে থানায় দেওয়া মামলায় আগের আসামিদের পাশাপাশি আরও নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে মুখে বলতে পারেননি নতুন আসামিদের নাম। মামলার বাদী দিনমজুর ছাবলু মিয়া বলেন, “কাগজে লেখা আছে।” মামলার বিষয়ে প্রথম প্রশ্ন করার পর কিছুক্ষণ কথা বলে লাইন কেটে দেন। তখন ট্রাই করে দেখা যায় ওয়েটিংয়ে। পরে আবার কথা বলেন মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে।

মামলার আরেক বাদী বিয়ানীবাজার উপজেলার বাঘবাড়ি এলাকার নিহত দেলোয়ারের পিতা আজির উদ্দিনকে মামলার এজাহারে দেওয়া ০১৩৪৪১২৪৫৭০ নম্বরে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। কথা হয় দেলোয়ারের ভাই সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। বলেন, “বাবা মামলার বাদী।”

“প্রভাব, নাকি প্রমাণের অভাব? সিলেটে জোড়া খুনের আসামি শ্রমিক নেতাদের অব্যাহতির সুপারিশ” সংবাদ সংক্রান্তে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পষ্টীকরণ:

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে “প্রভাব, নাকি প্রমাণের অভাব? সিলেটে জোড়া খুনের আসামি শ্রমিক নেতাদের অব্যাহতির সুপারিশ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মর্মে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বক্তব্য নিম্নরূপ:

গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. আনুমানিক বিকেল ৪টা সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী বাস টার্মিনালে অবস্থিত সিলেট জেলা মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৬ মে ২০২৬ খ্রি. দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা নং-০৬, তারিখ-০৬/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩০২/৪২৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড, জিআর নং-৯৩/২০২৬ রুজু হয়। উক্ত মামলায় ২৯ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা রুজুর পর থেকেই দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও আইনানুগভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তদন্তকালে এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন মর্মে মাননীয় পুলিশ কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বরাবর আবেদন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের অব্যাহতির আবেদন জানান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক মামলার সার্বিক তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিকতা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মইনুল ইসলাম, ২ নম্বর আসামি আলী আকবর রাজন, ৬ নম্বর আসামি আব্দুস শহিদ এবং ৭ নম্বর আসামি শামসুল হক মানিকের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও ঘটনাস্থল থেকে ভিন্ন স্থানে ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্তাধীন অবস্থায় প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারার বিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এখানে স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, উক্ত আসামিদের চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। পরবর্তী তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তাদের নাম চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবের প্রতি পক্ষপাত না করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি না করা—উভয় বিষয়ই পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সুতরাং, মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট আসামিদের চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাইপূর্বক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য সকলকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মামলায় সকল প্রকার তদন্ত শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনায় জড়িত নন—এমন চারজন পরিবহন শ্রমিক নেতার নাম বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

পরবর্তীতে একটি মহল বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা পুলিশের কাছে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি শ্রমিক নেতাদের প্রভাব নাকি তথ্য-প্রমাণের অভাব—এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে। এর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিক নেতারা প্রতিবাদ সভা করেন। তারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে প্রমাণিত হয়, একটি গোষ্ঠী পুলিশের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং শ্রমিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। সেহেতু প্রতীয়মান যে, আদালতের মামলা প্রত্যাহার করে থানায় দেওয়া মামলায় নতুন আসামি হিসেবে শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি-সহ নেতাদের নাম যুক্ত করা ছিল পরিকল্পিত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ পদক্ষেপ। যাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা—এমনটাই অনেকের ধারণা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন