• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সাইবার মামলায় সাংবাদিক শফিকের জামিন সাতক্ষীরা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অ্যাডহক কমিটি করে শ্রমিক কার্ড যাচাই করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, লাখ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সন্ধান পৌর প্রকল্পে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৩ লাখ, সরকারি কোষাগারে জমা ৫৯ লাখ ‘আপনাদের সম্মিলিত কর্মদক্ষতা ও সুপরিচালনাই অতিথি গ্রুপের সাফল্যের চাবিকাঠি’: সাইফুল ইসলাম সোহেল সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরসিসি ঢালাই রাস্তার কাজ শেষ স্বেচ্ছাসেবীদের অধিকতর প্রশিক্ষণেই নির্ভুল হবে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি

পৌর প্রকল্পে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৩ লাখ, সরকারি কোষাগারে জমা ৫৯ লাখ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

সোহেল খান দূর্জয়:

নেত্রকোনা পৌরসভায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষ অর্থ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তৈরি করেছেন নেত্রকোনা পৌরসভার সদ্য বিদায়ী পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার। এনপিআইডিপি প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের রাস্তার কাজ থেকে কাজের মান ও পরিমাপ ঠিক রেখে অতিরিক্ত ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা সাশ্রয় করে সেই অর্থ দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ছয়টি অতিরিক্ত বিভিন্ন মাপের আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যার মোট দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার ২০০ মিটার। যা পৌরসভার ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভা থেকে মোক্তারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত রাস্তা থেকে ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা সাশ্রয় করে মোক্তারপাড়া এলাকায় তিনটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার। অজহর রোড, পান মহালের মোড় থেকে ইসলামপুর মোড় পর্যন্ত বাস্তবায়িত রাস্তা থেকে অতিরিক্ত ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় করে চন্দ্রনাথ স্কুল থেকে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত ৫০০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পশ্চিম সাতপাই এলাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে রেললাইনের পাশ দিয়ে আবুল হোসেন তালুকদারের বাড়ি পর্যন্ত একটি নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার। মনিকা রোডে বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে ৭ লাখ টাকা সাশ্রয় করে ডিসি বাংলোর পেছনে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনা পৌরসভাকে জনবান্ধব ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বাস্তবায়ন করেছেন বহু উন্নয়ন কার্যক্রম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সাতপাই সরকারি কলেজ থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ, নিউটাউন পুকুরপাড়, মোক্তারপাড়া, সদর হাসপাতাল ও বারহাট্টা রোড, চক মসজিদ থেকে ইসলামপুর রাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, পৌর এলাকার একাধিক সেতু সংস্কার ও রংকরণ, ধলাই নদী সংস্কারসহ বড় দুটি সাঁকো নির্মাণ, পৌর ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন, প্রায় ৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ এবং পুরোনো রোড লাইন প্রতিস্থাপন।

এ ছাড়া এডিপি ও টিআর কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিসি রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ, সলিং কাজ, ১৩টি ডাস্টবিন স্থাপনসহ পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন হিসাবের বিপরীতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আর্থিক শৃঙ্খলার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন তিনি।

সচেতন মহলের মতে, এই প্রথম নেত্রকোনা পৌরসভায় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের মধ্যে সরকারি কাজে আগ্রহ, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের এই আস্থা ও ভালোবাসাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করছে আরও এগিয়ে যেতে। নেত্রকোনা পৌরসভাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ ও মডেল পৌরসভায় পরিণত করার স্বপ্ন নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন নেত্রকোনা পৌরসভার সদ্য বিদায়ী মানবিক ও নিরহংকার মনের মানুষ পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার।

নেত্রকোনা পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, এনপিআইডিপি প্রকল্পের চারটি প্যাকেজ থেকে সাশ্রয় হয়েছে আরও ৫৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এটিও পৌরসভার ইতিহাসে নজির বয়ে এনেছে।

পৌরসভা থেকে মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা পর্যন্ত বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে ১৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। হাটখোলা রোডে বাস্তবায়িত ড্রেন প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বাহির চাপড়া এলাকায় সাবেক কমিশনার আমির বাসারের বাড়ি থেকে বড়ওয়ারী পর্যন্ত রাস্তা থেকে ৩০ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে এবং উকিলপাড়া ড্রেন থেকে ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগ কমেছে এবং পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার সদ্য বিদায়ী প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, “সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কাজের মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করেই ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে। সেই সাশ্রয়ী অর্থ আবার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আসার পর ১০ কিলোমিটার লাইন বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ৪০০টি সড়কবাতি দেওয়া হয়েছে।”

নেত্রকোনা পৌরবাসীর মতে, একই বরাদ্দের অর্থ থেকে সাশ্রয় করে নতুন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের এই উদ্যোগ সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন